ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুল নিয়ে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ

শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুল নিয়ে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তনের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিভিন্ন শহরে শত শত স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠনের দাবি, প্রায় ১ হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয় অবরোধ করা হয়েছে অথবা দিনের জন্য বন্ধ রাখা হবে।

মার্সেই, নান্তেস ও লিওঁ শহরে সকালে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। ল ইউনিয়ন এটুডিয়ান্টের তথ্য অনুযায়ী, মার্সেই, নিস, নান্তেস, লিয়োঁ ও প্যারিসসহ ৩০টির বেশি শহরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। রাজধানী প্যারিসে পরে বড় বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণদের ধোঁয়ার ফ্লেয়ার ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়। কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের স্কুলের বইয়ের নিচে জমে আছে ক্ষোভ’ এবং ‘রাজনীতিবিদরা কোথায়? তারা কি আদৌ জানেন যে আমরা আছি?’

নিক বিকের তথ্য অনুযায়ী, লিলি শহরে ময়লার ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে প্যারিসের সুবিধাবঞ্চিত উপশহরগুলো থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনটি ধীরে ধীরে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করেছে সরকার। সরকারের দাবি, আন্দোলনের কিছু অংশ সহিংস হয়ে উঠেছে।

সোমবার উত্তর ফ্রান্সের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয়। পাস-দ্য-ক্যালাইসের প্রিফেক্ট ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের লাউশ ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে তিনি বলেন, ‘ওই সময় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ছিল।’

আঞ্চলিক সংবাদপত্র ‘লা ভোয়া দ্যু নর্ড’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ছত্রভঙ্গ করার কাজে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড ওই কিশোর তুলে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তার হাত এবং বাহুর নিচের অংশের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয় অবরোধ করা হয়েছে অথবা দিনের জন্য বন্ধ থাকবে বলে দাবি করেছে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। কয়েকটি স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ অনলাইনে ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

স্ট্রাসবার্গের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হুগো ভেটজেল বলেন, ‘যখন কোনো সমস্যার জবাব হয় সহিংসতা, তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্র আর ঠিকভাবে কাজ করছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের জায়গায় দ্রুত বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো পূরণে উদ্যোগ নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার স্কুলের অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

লেকোর্নু বলেছেন, পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় মেরামতের বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করবে। এ বিষয়ে আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমানোর চেষ্টার মধ্যেই ফ্রান্সের ক্রমবর্ধমান ঋণ, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় কমানোর সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে।

গত সপ্তাহে দেশটির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার সাময়িকভাবে ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, যা প্রায় ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফ্রান্সের ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব ইউরোর অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। একই সময়ে ইউরোর দরপতনও ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তবে অর্থমন্ত্রী রোলান্ড লেস্কুর মঙ্গলবার বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখনই হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী ও ইউরো-সংশয়বাদী রাজনীতিক মেরিন লে পেন ক্ষমতায় গেলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বন্ডবাজারে চাপের মধ্যে তিনি নিজের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ কর্মকর্তা এবং ২১৫ কিশোর-কিশোরী আহত হয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস আগে চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধও তীব্র হয়েছে। ম্যাখোঁর সরকার ও ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টি কট্টর বামপন্থী ফ্রান্স আনবাউডের (এলএফআই) আইনপ্রণেতা ও মেয়রদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেছে। এলএফআই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্যারিসের দরিদ্র উপশহর সাঁ-দেনির এলএফআই মেয়র বালি বাগায়োকো জানিয়েছেন, তিনি সহিংসতার বিরোধী হলেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে আছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার এলাকার বাসিন্দাদের পাশে থাকার অবস্থানে অটল। আর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আমার এলাকারই বাসিন্দা।’

সূত্র: রয়টার্স।

ট্যাগ : ফ্রান্স

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুল নিয়ে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তনের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিভিন্ন শহরে শত শত স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠনের দাবি, প্রায় ১ হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয় অবরোধ করা হয়েছে অথবা দিনের জন্য বন্ধ রাখা হবে।

মার্সেই, নান্তেস ও লিওঁ শহরে সকালে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। ল ইউনিয়ন এটুডিয়ান্টের তথ্য অনুযায়ী, মার্সেই, নিস, নান্তেস, লিয়োঁ ও প্যারিসসহ ৩০টির বেশি শহরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। রাজধানী প্যারিসে পরে বড় বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণদের ধোঁয়ার ফ্লেয়ার ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়। কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের স্কুলের বইয়ের নিচে জমে আছে ক্ষোভ’ এবং ‘রাজনীতিবিদরা কোথায়? তারা কি আদৌ জানেন যে আমরা আছি?’

নিক বিকের তথ্য অনুযায়ী, লিলি শহরে ময়লার ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে প্যারিসের সুবিধাবঞ্চিত উপশহরগুলো থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনটি ধীরে ধীরে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করেছে সরকার। সরকারের দাবি, আন্দোলনের কিছু অংশ সহিংস হয়ে উঠেছে।

সোমবার উত্তর ফ্রান্সের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয়। পাস-দ্য-ক্যালাইসের প্রিফেক্ট ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের লাউশ ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে তিনি বলেন, ‘ওই সময় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ছিল।’

আঞ্চলিক সংবাদপত্র ‘লা ভোয়া দ্যু নর্ড’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ছত্রভঙ্গ করার কাজে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড ওই কিশোর তুলে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তার হাত এবং বাহুর নিচের অংশের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয় অবরোধ করা হয়েছে অথবা দিনের জন্য বন্ধ থাকবে বলে দাবি করেছে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। কয়েকটি স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ অনলাইনে ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

স্ট্রাসবার্গের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হুগো ভেটজেল বলেন, ‘যখন কোনো সমস্যার জবাব হয় সহিংসতা, তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্র আর ঠিকভাবে কাজ করছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের জায়গায় দ্রুত বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো পূরণে উদ্যোগ নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার স্কুলের অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

লেকোর্নু বলেছেন, পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় মেরামতের বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করবে। এ বিষয়ে আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমানোর চেষ্টার মধ্যেই ফ্রান্সের ক্রমবর্ধমান ঋণ, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় কমানোর সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে।

গত সপ্তাহে দেশটির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার সাময়িকভাবে ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, যা প্রায় ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফ্রান্সের ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব ইউরোর অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। একই সময়ে ইউরোর দরপতনও ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তবে অর্থমন্ত্রী রোলান্ড লেস্কুর মঙ্গলবার বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখনই হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী ও ইউরো-সংশয়বাদী রাজনীতিক মেরিন লে পেন ক্ষমতায় গেলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বন্ডবাজারে চাপের মধ্যে তিনি নিজের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ কর্মকর্তা এবং ২১৫ কিশোর-কিশোরী আহত হয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস আগে চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধও তীব্র হয়েছে। ম্যাখোঁর সরকার ও ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টি কট্টর বামপন্থী ফ্রান্স আনবাউডের (এলএফআই) আইনপ্রণেতা ও মেয়রদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেছে। এলএফআই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্যারিসের দরিদ্র উপশহর সাঁ-দেনির এলএফআই মেয়র বালি বাগায়োকো জানিয়েছেন, তিনি সহিংসতার বিরোধী হলেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে আছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার এলাকার বাসিন্দাদের পাশে থাকার অবস্থানে অটল। আর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আমার এলাকারই বাসিন্দা।’

সূত্র: রয়টার্স।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ