ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রায় ৩০০ সাংসদ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংসদ থেকে নির্বাচন সদনের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে এগোলে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।
সকাল ১১টার দিকে সংসদের মকরদ্বার থেকে মিছিল শুরু করেন বিরোধী সাংসদেরা। এতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং এনসিপির সুপ্রিয়া সুলেসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।
নির্বাচন সদনের অদূরে নীতি আয়োগ কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মিছিলটি আটকে দিলে সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সাংসদেরা। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান রাহুল গান্ধী। এ সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর আকাশবাণী কার্যালয় চত্বরের ভেতর দিয়ে নির্বাচন সদনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন রাহুল। সেখানেও পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ আরও কয়েকজন সাংসদ সেখানে পৌঁছান।
দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তারা সেখানে এসেছেন। তার সঙ্গে প্রায় ৩০০ সাংসদ রয়েছেন এবং তারাও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই করছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাহুল দাবি করেন, তারা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। মোদি, শাহ ও ভাগবত ‘ভোট চুরি’ করে দেশকে ‘হাইজ্যাক’ করেছেন এবং জ্ঞানেশ কুমার তাদের সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপির পক্ষ থেকে তাকে আবার রাজনৈতিকভাবে ‘লঞ্চ’ করার চেষ্টা চলছে বলে যে মন্তব্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাহুল বলেন, বিজেপি কী বলছে, তাতে তার কিছু যায় আসে না। এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ওদের মোকাবিলা করছি না। আমরা ওদের ধ্বংস করে দেব।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন রাহুল। তার ভাষ্য, প্রায় ৩০০ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন মাত্র ৫০ গজ দূরে থাকা সত্ত্বেও সেখানে যেতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, তাদের আন্দোলন অবিচারের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর পাওয়া সর্বজনীন ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের ‘হাতের পুতুল’ হয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন খড়্গে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে একতরফাভাবে ৯০ লাখ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে অনেক আবেদন এখনো অমীমাংসিত। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালেও কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গে কমিশন ‘নির্লজ্জের মতো’ আচরণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবারের এ কর্মসূচিতে বিরোধী জোটের বিভিন্ন দলের আরও অনেক সাংসদ অংশ নেন।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।
মন্তব্যসমূহ