ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশ

তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ।

একই সময়ে দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় তুরস্কের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার ছিল অনেক বেশি।

তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক প্রধান। তবে পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, অপটিক্যাল সামগ্রী এবং চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও দেশটিতে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের মতে, তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে সরে আসছেন। এতে স্থানীয় উৎপাদনে যে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা পূরণে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং সময়মতো সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তুরস্কের বাজারে আরও বেশি প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন ফজলে শামীম এহসান। উচ্চমূল্যের পোশাক, মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরিখাতের বস্ত্রের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান।

নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তুরস্কে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনে তুর্কি এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের শক্তিশালী শিল্প ও পরিশোধন সক্ষমতাও বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য কাঁচামালের উৎস হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দেশটি থেকে অর্গানিক তুলা ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানির সুযোগ বাংলাদেশের শিল্পকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরের সময় বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানান। বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও অনুকূল কাঠামো তৈরির বিষয়েও তখন আলোচনা হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, তুরস্কে রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, তৈরি পণ্য এবং অপটিক্যাল, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কে রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের সম্ভাবনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্য, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি ২০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্য অর্জনের পথও সহজ হতে পারে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ তুরস্ক ইপিবি রপ্তানি আয়

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ।

একই সময়ে দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় তুরস্কের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার ছিল অনেক বেশি।

তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক প্রধান। তবে পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, অপটিক্যাল সামগ্রী এবং চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও দেশটিতে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের মতে, তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে সরে আসছেন। এতে স্থানীয় উৎপাদনে যে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা পূরণে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং সময়মতো সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তুরস্কের বাজারে আরও বেশি প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন ফজলে শামীম এহসান। উচ্চমূল্যের পোশাক, মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরিখাতের বস্ত্রের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান।

নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তুরস্কে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনে তুর্কি এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের শক্তিশালী শিল্প ও পরিশোধন সক্ষমতাও বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য কাঁচামালের উৎস হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দেশটি থেকে অর্গানিক তুলা ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানির সুযোগ বাংলাদেশের শিল্পকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরের সময় বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানান। বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও অনুকূল কাঠামো তৈরির বিষয়েও তখন আলোচনা হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, তুরস্কে রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, তৈরি পণ্য এবং অপটিক্যাল, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কে রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের সম্ভাবনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্য, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি ২০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্য অর্জনের পথও সহজ হতে পারে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ