ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার। এর মাধ্যমে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে রোববার (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল দিবসটি পালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্টোবরের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয় সামনে রেখে এবারও বাংলাদেশে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার বাস্তবতায় জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগরায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নগর উন্নয়নে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন ও সুষম উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর নগরজীবন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও নগর দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন নগরজীবনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে বলে জানান তিনি। বস্তিবাসীদের দীর্ঘদিনের আবাসনের মালিকানা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও এর অন্তর্ভুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ‘সবার জন্য বাসস্থান’ ধারণাকে শুধু একটি ঘর নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার সমন্বিত নিশ্চয়তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পাশাপাশি সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগ পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

টেকসই আবাসন ও নগরায়ন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কাজে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা এবং সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।

পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব বসতি দিবস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার। এর মাধ্যমে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে রোববার (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল দিবসটি পালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্টোবরের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয় সামনে রেখে এবারও বাংলাদেশে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার বাস্তবতায় জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগরায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নগর উন্নয়নে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন ও সুষম উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর নগরজীবন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও নগর দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন নগরজীবনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে বলে জানান তিনি। বস্তিবাসীদের দীর্ঘদিনের আবাসনের মালিকানা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও এর অন্তর্ভুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ‘সবার জন্য বাসস্থান’ ধারণাকে শুধু একটি ঘর নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার সমন্বিত নিশ্চয়তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পাশাপাশি সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগ পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

টেকসই আবাসন ও নগরায়ন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কাজে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা এবং সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।

পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ