ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রায়পুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়

রায়পুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়া বাসায় মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার তিন দিন পার হলেও হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তির মাদকাসক্তি, নিহতদের সঙ্গে পূর্বপরিচয়, স্বর্ণালংকার লুট, অর্থ লেনদেন ও পূর্ববিরোধসহ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম, তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার। সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ইকরা পড়তেন রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।

ঘটনার সময় বাসায় না থাকায় শাহিনুর বেগমের একমাত্র ছেলে কলেজছাত্র জুনায়েদ ইসলাম শিফাত প্রাণে বেঁচে যান।

হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর সময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে স্থানীয় লোকজন আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্তরের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোডের ধানহাটা এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, প্রত্যক্ষদর্শী, স্বজনদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

স্থানীয়দের মতে, হত্যার সময় বাসার ভেতরে কী ঘটেছিল, হামলাকারীর লক্ষ্য একজন ছিলেন নাকি পুরো পরিবার, হত্যার আগে কোনো বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল কি না এবং পূর্বপরিচয় থাকা সত্ত্বেও কেন এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হলো, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

নিহত শাহিনুর বেগমের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ জানান, তার বোনের কাছে কিছু স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের সন্দেহ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যে সত্য বেরিয়ে আসবে, সেটিই মেনে নেওয়া হবে। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে নিহত মা ও তিন মেয়ের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে লাশবাহী দুটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছায়। পরে মেঘনা নদীর তীরের মাঠে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া স্থানীয় শিক্ষার্থী আবির হোসেন জানান, ঘরের ভেতরে মা ও তিন মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। সেই দৃশ্য এখনও তাকে নাড়া দিচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা অরূপ রায় জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। নিহত চারজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় রায়পুর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। শুক্রবার নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় অন্তর মজুমদার ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্বর্ণালংকার চুরি এবং আরও কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

ট্যাগ : হত্যা মামলা রায়পুর পুলিশ তদন্ত

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রায়পুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়া বাসায় মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার তিন দিন পার হলেও হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তির মাদকাসক্তি, নিহতদের সঙ্গে পূর্বপরিচয়, স্বর্ণালংকার লুট, অর্থ লেনদেন ও পূর্ববিরোধসহ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম, তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার। সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ইকরা পড়তেন রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।

ঘটনার সময় বাসায় না থাকায় শাহিনুর বেগমের একমাত্র ছেলে কলেজছাত্র জুনায়েদ ইসলাম শিফাত প্রাণে বেঁচে যান।

হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর সময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে স্থানীয় লোকজন আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্তরের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোডের ধানহাটা এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, প্রত্যক্ষদর্শী, স্বজনদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

স্থানীয়দের মতে, হত্যার সময় বাসার ভেতরে কী ঘটেছিল, হামলাকারীর লক্ষ্য একজন ছিলেন নাকি পুরো পরিবার, হত্যার আগে কোনো বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল কি না এবং পূর্বপরিচয় থাকা সত্ত্বেও কেন এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হলো, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

নিহত শাহিনুর বেগমের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ জানান, তার বোনের কাছে কিছু স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের সন্দেহ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যে সত্য বেরিয়ে আসবে, সেটিই মেনে নেওয়া হবে। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে নিহত মা ও তিন মেয়ের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে লাশবাহী দুটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছায়। পরে মেঘনা নদীর তীরের মাঠে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া স্থানীয় শিক্ষার্থী আবির হোসেন জানান, ঘরের ভেতরে মা ও তিন মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। সেই দৃশ্য এখনও তাকে নাড়া দিচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা অরূপ রায় জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। নিহত চারজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় রায়পুর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। শুক্রবার নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় অন্তর মজুমদার ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্বর্ণালংকার চুরি এবং আরও কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ