সড়ক পরিবহণ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সড়ক ও রেলপথ খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, নিরাপদ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০৬টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে দেশে ৩ হাজার কিলোমিটার আধুনিক ও নিরাপদ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, পর্যটন এবং সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।
রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে হাবিবুর রশীদ বলেন, ঢাকার ভেতরে থাকা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো রাজধানীর বাইরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রোরেলের সঙ্গে মনোরেল এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন চালুর লক্ষ্যেও কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থাকে দক্ষ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে সরকার পাঁচ লাখ দক্ষ চালক তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
রেলপথ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে রেলপথ খাতে প্রায় ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি প্রতিটি ট্রেনে ইন্টারনেট সেবা চালু, রেলস্টেশনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংযোজনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
হাবিবুর রশীদ বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। তার মতে, এই বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপরেখা।
প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রশংসা করে বলেন, এসব সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৯-এর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকায় এখনও কিছু স্থানে বাঁশের সাঁকো ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মুগদা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে আরও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ