ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বাংলা কিউআর চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলা কিউআর চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের আর্থিক লেনদেনের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগে যেখানে নগদ টাকা ছিল লেনদেনের প্রধান মাধ্যম, এখন মোবাইল ফোনই অনেক মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে সার্বজনীন পেমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বাংলা কিউআর চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে গভর্নর বলেন, আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করত। ফলে এক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোডে সহজে লেনদেন করতে পারতেন না। বাংলা কিউআর চালুর ফলে এখন একই অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, বড় শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান পর্যন্ত সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবে। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ হবে।

গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবহার করে পেমেন্ট করার প্রক্রিয়া খুব সহজ। গ্রাহক তার ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপে প্রবেশ করে দোকানের কিউআর কোড স্ক্যান করবেন। এরপর টাকার পরিমাণ লিখে পিন বা ওটিপি দিয়ে মুহূর্তেই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় নগদ টাকা বা খুচরা টাকা বহনের প্রয়োজন কমে যাবে। একই সঙ্গে ছেঁড়া বা জাল নোট গ্রহণের ঝুঁকিও কমবে। যেকোনো অঙ্কের পেমেন্ট সহজে করা সম্ভব হবে।

মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তুলনামূলক কম। তাই বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরাও সহজে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।

গভর্নর আরও বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস তৈরি হবে। ভবিষ্যতে এই লেনদেনের তথ্য তাদের আর্থিক প্রোফাইল হিসেবে কাজে লাগতে পারে। এর ভিত্তিতে জামানত ছাড়া ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা সুবিধা পেতে পারেন।

তবে নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর বা ওটিপি ব্যাংকের কর্মকর্তা কিংবা অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

গভর্নরের মতে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়লে নগদ টাকা ছাপানো, পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের ব্যয় কমবে। তিনি বলেন, বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর মোবাইল ব্যাংকিং

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাংলা কিউআর চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের আর্থিক লেনদেনের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগে যেখানে নগদ টাকা ছিল লেনদেনের প্রধান মাধ্যম, এখন মোবাইল ফোনই অনেক মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে সার্বজনীন পেমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বাংলা কিউআর চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে গভর্নর বলেন, আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করত। ফলে এক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোডে সহজে লেনদেন করতে পারতেন না। বাংলা কিউআর চালুর ফলে এখন একই অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, বড় শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান পর্যন্ত সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবে। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ হবে।

গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবহার করে পেমেন্ট করার প্রক্রিয়া খুব সহজ। গ্রাহক তার ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপে প্রবেশ করে দোকানের কিউআর কোড স্ক্যান করবেন। এরপর টাকার পরিমাণ লিখে পিন বা ওটিপি দিয়ে মুহূর্তেই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় নগদ টাকা বা খুচরা টাকা বহনের প্রয়োজন কমে যাবে। একই সঙ্গে ছেঁড়া বা জাল নোট গ্রহণের ঝুঁকিও কমবে। যেকোনো অঙ্কের পেমেন্ট সহজে করা সম্ভব হবে।

মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তুলনামূলক কম। তাই বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরাও সহজে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।

গভর্নর আরও বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস তৈরি হবে। ভবিষ্যতে এই লেনদেনের তথ্য তাদের আর্থিক প্রোফাইল হিসেবে কাজে লাগতে পারে। এর ভিত্তিতে জামানত ছাড়া ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা সুবিধা পেতে পারেন।

তবে নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর বা ওটিপি ব্যাংকের কর্মকর্তা কিংবা অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

গভর্নরের মতে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়লে নগদ টাকা ছাপানো, পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রের ব্যয় কমবে। তিনি বলেন, বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ