গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সময় বুধবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি বেসামরিক গাড়িতে থাকা পাঁচজন এবং এক সাংবাদিকও রয়েছেন। ওই সাংবাদিক কোরআন শিক্ষা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল-আওসাতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তেল আল-হাওয়া এলাকায় গাজার মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ের মোড়ের কাছে একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা নিহত পাঁচজনের মরদেহ আল-শিফা হাসপাতালে এবং আহত ১৩ জনকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, গাড়িটিতে বেসামরিক মানুষ ছিলেন। তারা গাজা সিটি থেকে গাজার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাতায়াত করছিলেন। পথে গাড়িটিতে হামলা চালানো হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় মোট ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
এর আগে বুধবার গাজা সিটির আল-ওয়াহদা স্ট্রিটে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইমান আবদুল আল নামে এক নারী নিহত হন। তাঁর স্বামীও হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হামলাটি হামাসের কথিত এক সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই কথিত হামাস সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলে খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমে মাওয়াসি আল-কারারা এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৩৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও ইমাম মোহাম্মদ আবদুল আজিজ আল-নাজ্জার নিহত হন।
আল-নাজ্জার কোরআন রেডিওতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও উপস্থাপনার কাজ করতেন। গাজার ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতে, হামলার সময় তিনি কোরআন মুখস্থ করা বা হিফজ শিক্ষা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আল-নাজ্জার খান ইউনিসের পূর্বে অবস্থিত খুজা’আ এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। সেখানে তিনি ইবাদ আল-রহমান মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। হামলার পর তাঁর মরদেহ নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। ওই হামলায় আরও একজন আহত হয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে বুধবার দিনের শেষ দিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে খান ইউনিসের উত্তরে কারারা এলাকায় সালাহউদ্দিন রোডের আল-মাতাহিন মোড়ের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৩৩ বছর বয়সী বিলাল আল-সুমাইরি নিহত হন।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই হামলায় আরও অন্তত দুই ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি মেয়েশিশুও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েক লাখ মানুষ আহত হয়েছেন এবং গাজার অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মন্তব্যসমূহ