কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৪) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে রাস্তা থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জিসানকে অপহরণের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে। নিহত জিসান চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা মাঝের স্টেশন এলাকার একটি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন জিসান। এ সময় হঠাৎ সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে আসে। পরে তারা জোরপূর্বক জিসানকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রচণ্ড নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরে দুর্বৃত্তরা জিসানের হাত-পা বেঁধে তার মরদেহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার মো. ইসমাইল হোসেন জানান, গভীর রাতে মহাসড়কের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পরিবারের অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।
মন্তব্যসমূহ