ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গণমাধ্যমকে টার্গেট করে সাইবার আইন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণমাধ্যমকে টার্গেট করে সাইবার আইন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই আইনের কোনো ধরনের অপপ্রয়োগ সরকার চায় না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনটির খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশোধনী খসড়াটি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। এরপর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সাইবার বিশেষজ্ঞ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এর আগে সংশোধনী খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করা হয়।

তার ভাষ্য, আইনটি যেন নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। খসড়া প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে পাওয়া মতামতও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে আইনটি তৈরি করা হচ্ছে না। কোনো সাংবাদিক যেন আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। গণমাধ্যমের সুরক্ষায় সাংবাদিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ধারা রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবটি তার কাছে উপযুক্ত মনে হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে যেসব সুপারিশ পাওয়া যাবে, সেগুলোর সঙ্গে এই প্রস্তাবটিও বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে না রাখা।

সুপারিশগুলো সমন্বয়ের জন্য একটি ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সংবাদপত্রের সম্পাদক, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুপারিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা সেগুলো পর্যালোচনা করবেন। এরপর সংশোধিত খসড়া আবারও জনমত নেওয়ার জন্য প্রকাশ করা হবে। গ্রহণযোগ্য মতামত পাওয়া গেলে তা খসড়ায় যুক্ত করা হবে।

পরবর্তী ধাপে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে খসড়া মন্ত্রিসভার বিবেচনায় পাঠানোর কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে তা বিল হিসেবে সংসদে যাবে। সংসদেও আইনটি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনার সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন এবং দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি তৈরির চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় রেখে সাইবার পরিসরে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ চলতি বছরের এপ্রিলে প্রণীত হয় এবং পরবর্তী সময়ে আইনটির সংশোধনী খসড়া নিয়ে কাজ শুরু হয়। 

ট্যাগ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিক সাইবার সুরক্ষা আইন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গণমাধ্যমকে টার্গেট করে সাইবার আইন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই আইনের কোনো ধরনের অপপ্রয়োগ সরকার চায় না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনটির খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশোধনী খসড়াটি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। এরপর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সাইবার বিশেষজ্ঞ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এর আগে সংশোধনী খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করা হয়।

তার ভাষ্য, আইনটি যেন নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। খসড়া প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে পাওয়া মতামতও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে আইনটি তৈরি করা হচ্ছে না। কোনো সাংবাদিক যেন আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। গণমাধ্যমের সুরক্ষায় সাংবাদিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ধারা রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবটি তার কাছে উপযুক্ত মনে হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে যেসব সুপারিশ পাওয়া যাবে, সেগুলোর সঙ্গে এই প্রস্তাবটিও বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে না রাখা।

সুপারিশগুলো সমন্বয়ের জন্য একটি ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সংবাদপত্রের সম্পাদক, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুপারিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা সেগুলো পর্যালোচনা করবেন। এরপর সংশোধিত খসড়া আবারও জনমত নেওয়ার জন্য প্রকাশ করা হবে। গ্রহণযোগ্য মতামত পাওয়া গেলে তা খসড়ায় যুক্ত করা হবে।

পরবর্তী ধাপে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে খসড়া মন্ত্রিসভার বিবেচনায় পাঠানোর কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে তা বিল হিসেবে সংসদে যাবে। সংসদেও আইনটি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনার সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন এবং দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি তৈরির চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় রেখে সাইবার পরিসরে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ চলতি বছরের এপ্রিলে প্রণীত হয় এবং পরবর্তী সময়ে আইনটির সংশোধনী খসড়া নিয়ে কাজ শুরু হয়। 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ