তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা প্রয়োজন এবং চীনের কাছ থেকে দেশটির সামরিক হুমকির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালোভাবেই’ বোঝে বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নেতাদের শীর্ষ বৈঠকের পর রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর রয়টার্সের।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। অন্যদিকে, চীনের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও অস্ত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তাইপে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য কয়েক মাস ধরে অপেক্ষা করছে তাইওয়ান। এর আগে গত ডিসেম্বরে ঘোষিত রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির পর নতুন এই প্যাকেজের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে দেশটি।
গত মে মাসে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সর্বশেষ অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নেতাদের শীর্ষ বৈঠকের পরও তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্প নতুন করে কোনো ঘোষণা দেননি। তবে শনিবার তিনি বলেন, তাইওয়ান বিষয়ে তার অবস্থান শি জিনপিং বোঝেন।
রোববার তাইপেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেন। রুবিও বলেছিলেন, যেকোনো দেশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে একই ধরনের সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়।
চেন মিং-চি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রণালিতে তাইওয়ান একটি গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি। চীনের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়লেও তারা সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে আরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রতিরক্ষা প্রয়োজন খুব ভালোভাবেই বোঝে।’
তাইওয়ান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে যে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটিও ওয়াশিংটন বুঝতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চেন বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি এবং আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্র আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আমাদের যে দৃঢ়তা, দুটিই পুরোপুরি বোঝে।’
যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা অর্জনে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
শুক্রবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ বলেন, অস্ত্র বিক্রিসহ তাইওয়ান বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এ বিষয়ে চেন মিং-চি বলেন, ‘আমেরিকান বন্ধুদের কাছ থেকে আমরা বারবার নিশ্চিত হয়েছি যে তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
তাইওয়ান সরকার বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাইপের বক্তব্য, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল তাইওয়ানের জনগণের।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে চীনের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে এলেও বেইজিং তা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। চীন লাইকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা চাহিদা, চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে তাইওয়ান প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ