ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সৌদি আরবের দিকে ছোড়া হুতিদের ২ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ ড্রোন প্রতিহত

সৌদি আরবের দিকে ছোড়া হুতিদের ২ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ ড্রোন প্রতিহত
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সৌদি আরবের দিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে সৌদি ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করে প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছে জোটটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পৃথক বার্তায় জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইতের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে দুটি ড্রোনের লক্ষ্য ছিল রাজধানী রিয়াদ।

সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জোট। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

হামলার আশঙ্কায় রাতভর খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের জন্য সতর্কতা জারি রেখেছিল সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তবে রিয়াদ শহরের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত ও আবহা ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। অতীতেও হুতিদের হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে এসব এলাকা।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ এবং দেশটির সবচেয়ে জনবহুল কয়েকটি এলাকা বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনটির সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

হুতিদের হামলার প্রভাব সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ লোহিত সাগর। এ পথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য সরবরাহের সময় উভয়ই বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরেও অস্থিরতা থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

হুতিদের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশটির সামনে থাকা বিভিন্ন সামরিক হুমকি নিয়ে আলোচনা হয়।

গত মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান শনিবার ভোরে জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যেই সৌদি আরবের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। এতে দেশটির নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : সৌদি আরব ইয়েমেন হুতি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সৌদি আরবের দিকে ছোড়া হুতিদের ২ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ ড্রোন প্রতিহত

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের দিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে সৌদি ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করে প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছে জোটটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পৃথক বার্তায় জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইতের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে দুটি ড্রোনের লক্ষ্য ছিল রাজধানী রিয়াদ।

সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জোট। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

হামলার আশঙ্কায় রাতভর খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের জন্য সতর্কতা জারি রেখেছিল সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তবে রিয়াদ শহরের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত ও আবহা ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। অতীতেও হুতিদের হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে এসব এলাকা।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ এবং দেশটির সবচেয়ে জনবহুল কয়েকটি এলাকা বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনটির সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

হুতিদের হামলার প্রভাব সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ লোহিত সাগর। এ পথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য সরবরাহের সময় উভয়ই বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরেও অস্থিরতা থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

হুতিদের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশটির সামনে থাকা বিভিন্ন সামরিক হুমকি নিয়ে আলোচনা হয়।

গত মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান শনিবার ভোরে জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যেই সৌদি আরবের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। এতে দেশটির নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ