ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ইরান ইস্যুতে শি জিনপিং কে ট্রাম্পের সতর্ক বার্তা

হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ইরান ইস্যুতে শি  জিনপিং কে ট্রাম্পের সতর্ক বার্তা
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বলে জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, হোয়াইট হাউসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সরাসরি ও খোলামেলা আলোচনায় ইরানকে চীনের সহায়তার বিষয়টি আবারও তুলে ধরেন ট্রাম্প। পারডিউর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগেই চীনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য, যন্ত্রাংশ কিংবা সামরিক সরঞ্জাম—যে ধরনের সহায়তাই দেওয়া হোক না কেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্প শির সঙ্গে বৈঠকেও একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানান তিনি।

পারডিউ বলেন, ট্রাম্প ও শির মধ্যে ধীরে ধীরে কিছুটা আস্থার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে এবং তারা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করছেন। তার ভাষায়, দুই নেতার বৈঠক ছিল খুবই খোলামেলা ও সরাসরি। তারা যখনই আলোচনা করেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যে কঠিন বিষয়গুলোর মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনার ঘনিষ্ঠতা ও গভীরতায় ভিন্ন মাত্রা দেখা যায়।

ট্রাম্প ও শির বৈঠকটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন ইরানের ওপর নতুন করে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ইরানের অবশিষ্ট যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় বেইজিং সহযোগিতা না করলে এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পারডিউ আরও দাবি করেন, ট্রাম্প ও শি একমত হয়েছেন যে ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে এবং ওই প্রণালিতে কাউকে টোল নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তার দাবি, এসব আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। পারডিউ বলেন, ইরান কিছু বিষয়ে পিছু হটেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন প্রমাণ রয়েছে যে ট্রাম্প যখন এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তখন ইরান তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।

গত এক মাসে ইরান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে ট্রাম্পকে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে বলেও জানান পারডিউ। তিনি বলেন, ইরান একটি স্বতন্ত্র ইস্যু এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কী, তা ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এর সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যু কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ইরানকে চীনের ‘পরোক্ষ সহায়তা’ দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পারডিউ। তিনি বলেন, এই ধরনের পরোক্ষ কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি চীনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে চীন তেহরানকে সহায়তা করছে—এমন বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীনের স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালাতে সহায়তা করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীন ইরানকে এমন কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে, যা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর আগে মে মাসে মার্কিন প্রশাসন চীনের তিনটি স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি ছিল, এসব প্রতিষ্ঠানের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় মার্কিন অবস্থানে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছে।

তবে চীন ইরানকে এসব সহায়তা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।

ট্যাগ : ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন শি জিনপিং

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ইরান ইস্যুতে শি জিনপিং কে ট্রাম্পের সতর্ক বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বলে জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, হোয়াইট হাউসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সরাসরি ও খোলামেলা আলোচনায় ইরানকে চীনের সহায়তার বিষয়টি আবারও তুলে ধরেন ট্রাম্প। পারডিউর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগেই চীনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য, যন্ত্রাংশ কিংবা সামরিক সরঞ্জাম—যে ধরনের সহায়তাই দেওয়া হোক না কেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্প শির সঙ্গে বৈঠকেও একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানান তিনি।

পারডিউ বলেন, ট্রাম্প ও শির মধ্যে ধীরে ধীরে কিছুটা আস্থার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে এবং তারা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করছেন। তার ভাষায়, দুই নেতার বৈঠক ছিল খুবই খোলামেলা ও সরাসরি। তারা যখনই আলোচনা করেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যে কঠিন বিষয়গুলোর মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনার ঘনিষ্ঠতা ও গভীরতায় ভিন্ন মাত্রা দেখা যায়।

ট্রাম্প ও শির বৈঠকটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন ইরানের ওপর নতুন করে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ইরানের অবশিষ্ট যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় বেইজিং সহযোগিতা না করলে এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পারডিউ আরও দাবি করেন, ট্রাম্প ও শি একমত হয়েছেন যে ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে এবং ওই প্রণালিতে কাউকে টোল নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তার দাবি, এসব আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। পারডিউ বলেন, ইরান কিছু বিষয়ে পিছু হটেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন প্রমাণ রয়েছে যে ট্রাম্প যখন এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তখন ইরান তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।

গত এক মাসে ইরান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে ট্রাম্পকে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে বলেও জানান পারডিউ। তিনি বলেন, ইরান একটি স্বতন্ত্র ইস্যু এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কী, তা ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এর সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যু কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ইরানকে চীনের ‘পরোক্ষ সহায়তা’ দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পারডিউ। তিনি বলেন, এই ধরনের পরোক্ষ কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি চীনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে চীন তেহরানকে সহায়তা করছে—এমন বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীনের স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালাতে সহায়তা করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীন ইরানকে এমন কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে, যা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর আগে মে মাসে মার্কিন প্রশাসন চীনের তিনটি স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি ছিল, এসব প্রতিষ্ঠানের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় মার্কিন অবস্থানে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছে।

তবে চীন ইরানকে এসব সহায়তা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ