সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে চলমান দ্বাদশ সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইউনাইটেড কালচারস ফোরামের আয়োজনে বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ান ফেডারেশনের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ সমঝোতা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিল্প-সংস্কৃতি, জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
ফোরামের পাশাপাশি মিয়ানমারের ধর্ম ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ইউ তিন উ লুইন বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সফরকালে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্পুটনিক ইন্টারন্যাশনালকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা রয়েছে নিতাই রায় চৌধুরীর। সেখানে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ, বাংলা নববর্ষ ও লোকজ উৎসবের পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং বাংলা সংগীতের বৈচিত্র্য তুলে ধরার কথা রয়েছে।
ফোরামের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‘Folk Artisan Craftwork Rebooted’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে সংস্কৃতিমন্ত্রীর। সেখানে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও কারুশিল্পের পুনর্জাগরণ এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা তুলে ধরবেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে ফোরামের প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই অধিবেশনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিতাই রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়ে। প্রতিনিধি দলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্মসচিব রয়েছেন। ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে।
সফর শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রীর ২৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।