জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন ও ‘সন্ত্রাসবাদের’ জন্য দায়ী করে তিনি বলেছেন, চাপ বা হুমকির মুখে তেহরান মাথা নত করবে না। তবে একই সঙ্গে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান আলোচনা ও কূটনীতির জন্য প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হুমকি বা বলপ্রয়োগের ভাষায় হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটিই তার প্রথম ভাষণ।
এর একদিন আগে একই মঞ্চে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া যোগাযোগের কথাও তুলে ধরেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই নিউইয়র্কে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। মার্কিন ও ইরানি পক্ষের বর্ণনায় বৈঠকটি সরাসরি নাকি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হয়েছে, তা নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীসহ চলমান সংঘাত নিরসনের বিভিন্ন বিষয় সেখানে উঠে এসেছে।
পেজেশকিয়ান তার ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সংঘাতের শুরুর দিকে নিহত শিশুদের ছবি তুলে ধরে দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি, বরং আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নিজের সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পেজেশকিয়ান। তার দাবি, শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার ইরানের রয়েছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য অনুসরণ করছে না। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি।
হরমুজ প্রণালী নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অস্ত্র পরিবহনে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগে যুদ্ধ বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় করার মতো শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয়ে অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় পুরোপুরি চালু করার সম্ভাবনার কথাও ইরানি পক্ষ জানিয়েছে।
তবে তেহরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নে ভিন্নমত রয়েছে। ফলে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান