ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে উত্তেজনা

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইলের সঙ্গে মতবিরোধে জড়ানো কয়েকটি দেশ ও নেতার সমালোচনা তাঁর বক্তব্যে উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ থেকে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটারের ছেলে ও এক ইসরাইলি সেনা গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টিও নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে তুলে ধরতে পারেন।

নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর অন্যতম সমালোচক হিসেবে রয়েছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসার আগে মামদানি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা তাঁর নেই।

হেগভিত্তিক আইসিসি ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত কথিত যুদ্ধাপরাধের জন্য নেতানিয়াহু দায়ী হতে পারেন—এমন বিশ্বাসের যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। নেতানিয়াহু ও ইসরাইল আইসিসির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে ভাষণ দেওয়ার আগে নেতানিয়াহু মামদানির সমালোচনা করেন। তিনি মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে মামদানি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্য সত্য নয়।

নেতানিয়াহুর আরেক কঠোর সমালোচক ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে উপস্থিত থাকছেন না। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য ভিসা দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপও নেতানিয়াহুর বক্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ইসরাইলি পণ্য রপ্তানির ওপর ব্রিটেন সীমিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফ্রান্সও সম্প্রতি একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ পশ্চিম তীরে হামাস সক্রিয় নয় বলে মন্তব্য করায় ইসরাইলের সঙ্গে তাঁর সরকারের মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় মাখোঁর মন্তব্যকে ‘চরম হাস্যকর’ বলে আখ্যায়িত করে এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলিদের ওপর হামাসের হামলার অভিযোগ তোলে। ইসরাইল পশ্চিম তীরকে বাইবেলের নাম অনুসারে ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ বলে উল্লেখ করে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ফ্রান্সের ভূমিকা নিয়েও গত বছর নেতানিয়াহুর সঙ্গে মাখোঁর মতবিরোধ দেখা দেয়।

নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরানও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য দেশটির বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ দিচ্ছে ইসরাইল। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক রয়েছে এবং যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও সামনে এসেছে।

ইসরাইলের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্টের জাতিসংঘ ভাষণের পর তেহরানের বিরুদ্ধে লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুতিদের, গাজা ও পশ্চিম তীরে হামাস এবং ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে নিজ দেশের নাগরিকদের দমন করার অভিযোগও তোলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইরানের অবস্থান প্রতিবেদনে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

জাতিসংঘ ও মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনাও নেতানিয়াহুর ভাষণে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে নেতানিয়াহু জাতিসংঘ ও গুতেরেসের সমালোচনা করে আসছেন।

অন্যদিকে, গুতেরেস এ সপ্তাহে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনগত পদক্ষেপের উল্লেখ করেছেন। এসব পদক্ষেপে গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের বিষয়টি রয়েছে। ইসরাইল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

নেতানিয়াহু সরকার জাতিসংঘের একটি ফিলিস্তিনবিষয়ক সংস্থার বিরুদ্ধেও হামাসের সদস্যদের আড়াল করার অভিযোগ করে আসছে। ইসরাইলের দাবি, সংস্থাটির কয়েকজন কর্মী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় জড়িত ছিলেন। সংস্থাটি এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত ও সংশ্লিষ্টতার বিষয় নিয়ে পৃথক অবস্থান জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, অঞ্চলটির পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার-জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স এএফপিকে বলেন, গাজায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ইঞ্জিনের জ্বালানির মতো জরুরি সরবরাহ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইল ‘অত্যন্ত কঠিন’ আচরণ করছে। তাঁর দাবি, একই সময়ে কিছু বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

সন্ডার্সের মতে, ইসরাইলি সরকার তাদের জনগণের কাছে নিজেদের নীতির পক্ষে সমর্থন তৈরি করতে চাইছে। তাঁর বক্তব্যকে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করেছে এএফপি।

আগের বছরগুলোর মতো এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর নীতির প্রতিবাদে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদল অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে এবং নিউইয়র্কে বাইরে বিক্ষোভকারীরাও জড়ো হতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর এই ভাষণকে ঘিরে ইরান, গাজা, ফিলিস্তিন, জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক—এসব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

ট্যাগ : জাতিসংঘ বেনজামিন নেতানিয়াহু

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইলের সঙ্গে মতবিরোধে জড়ানো কয়েকটি দেশ ও নেতার সমালোচনা তাঁর বক্তব্যে উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ থেকে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটারের ছেলে ও এক ইসরাইলি সেনা গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টিও নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে তুলে ধরতে পারেন।

নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর অন্যতম সমালোচক হিসেবে রয়েছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসার আগে মামদানি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা তাঁর নেই।

হেগভিত্তিক আইসিসি ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত কথিত যুদ্ধাপরাধের জন্য নেতানিয়াহু দায়ী হতে পারেন—এমন বিশ্বাসের যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। নেতানিয়াহু ও ইসরাইল আইসিসির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে ভাষণ দেওয়ার আগে নেতানিয়াহু মামদানির সমালোচনা করেন। তিনি মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে মামদানি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্য সত্য নয়।

নেতানিয়াহুর আরেক কঠোর সমালোচক ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে উপস্থিত থাকছেন না। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য ভিসা দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপও নেতানিয়াহুর বক্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ইসরাইলি পণ্য রপ্তানির ওপর ব্রিটেন সীমিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফ্রান্সও সম্প্রতি একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ পশ্চিম তীরে হামাস সক্রিয় নয় বলে মন্তব্য করায় ইসরাইলের সঙ্গে তাঁর সরকারের মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় মাখোঁর মন্তব্যকে ‘চরম হাস্যকর’ বলে আখ্যায়িত করে এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলিদের ওপর হামাসের হামলার অভিযোগ তোলে। ইসরাইল পশ্চিম তীরকে বাইবেলের নাম অনুসারে ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ বলে উল্লেখ করে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ফ্রান্সের ভূমিকা নিয়েও গত বছর নেতানিয়াহুর সঙ্গে মাখোঁর মতবিরোধ দেখা দেয়।

নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরানও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য দেশটির বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ দিচ্ছে ইসরাইল। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক রয়েছে এবং যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও সামনে এসেছে।

ইসরাইলের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্টের জাতিসংঘ ভাষণের পর তেহরানের বিরুদ্ধে লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুতিদের, গাজা ও পশ্চিম তীরে হামাস এবং ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে নিজ দেশের নাগরিকদের দমন করার অভিযোগও তোলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইরানের অবস্থান প্রতিবেদনে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

জাতিসংঘ ও মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনাও নেতানিয়াহুর ভাষণে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে নেতানিয়াহু জাতিসংঘ ও গুতেরেসের সমালোচনা করে আসছেন।

অন্যদিকে, গুতেরেস এ সপ্তাহে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনগত পদক্ষেপের উল্লেখ করেছেন। এসব পদক্ষেপে গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের বিষয়টি রয়েছে। ইসরাইল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

নেতানিয়াহু সরকার জাতিসংঘের একটি ফিলিস্তিনবিষয়ক সংস্থার বিরুদ্ধেও হামাসের সদস্যদের আড়াল করার অভিযোগ করে আসছে। ইসরাইলের দাবি, সংস্থাটির কয়েকজন কর্মী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় জড়িত ছিলেন। সংস্থাটি এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত ও সংশ্লিষ্টতার বিষয় নিয়ে পৃথক অবস্থান জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, অঞ্চলটির পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার-জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স এএফপিকে বলেন, গাজায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ইঞ্জিনের জ্বালানির মতো জরুরি সরবরাহ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইল ‘অত্যন্ত কঠিন’ আচরণ করছে। তাঁর দাবি, একই সময়ে কিছু বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

সন্ডার্সের মতে, ইসরাইলি সরকার তাদের জনগণের কাছে নিজেদের নীতির পক্ষে সমর্থন তৈরি করতে চাইছে। তাঁর বক্তব্যকে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করেছে এএফপি।

আগের বছরগুলোর মতো এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর নীতির প্রতিবাদে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদল অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে এবং নিউইয়র্কে বাইরে বিক্ষোভকারীরাও জড়ো হতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর এই ভাষণকে ঘিরে ইরান, গাজা, ফিলিস্তিন, জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক—এসব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ