ইয়েমেনের তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে হুথি যোদ্ধারা। ড্রোন ব্যবহার করে মর্টার শেল ফেলার পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি ফ্রন্টে কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ায় তাইজের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক লড়াইয়ে সরকারি বাহিনী কিংবা হুথি—কোনো পক্ষই বড় ধরনের ভূখণ্ডগত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। তবে সংঘর্ষ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অনেক পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
বিশেষ করে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ সংস্থার কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হুথিরা সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। সেনাবাহিনী বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ড্রোন থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে মর্টার শেল ফেলা হচ্ছে।
এদিকে দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ফ্রন্টে ড্রোনের পাশাপাশি কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে প্রায় দুই মাস ধরে নতুন করে তীব্র লড়াই চলছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ ঘিরেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সরকারি বাহিনী এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে হুথিরা তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
চলমান সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সামরিক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বেসামরিক মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।