যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমানো এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স ও জাপানের কিয়োদো নিউজ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করে চলমান বৈরিতার স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তেহরানের মতে, জাতিসংঘের এই অধিবেশন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চায় ইরান। এর মধ্যে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং সামরিক চাপ কমানোর বিষয়টি প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত জুলাইয়ে ইরানের বন্দরগামী ও বন্দর থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করে। এর আগে জুনে দুই পক্ষের একটি সমঝোতার পর সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে প্রণালিটি পুনরায় পুরোপুরি চালু হওয়ার সম্ভাবনার খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। মঙ্গলবার ইরানের প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।
তবে রয়টার্স ও কিয়োদোর প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইরানের আধা-সরকারি ফারস নিউজ এ ধরনের প্রস্তাবের খবর অস্বীকার করেছে। ফারসের দাবি, ইরানি সূত্রগুলো সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাবসংক্রান্ত প্রতিবেদনকে সঠিক নয় বলে জানিয়েছে। ফলে তেহরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স