লক্ষ্মীপুরে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর এক ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. শাকিল মোবারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের ব্রাদার্স এলপিজি ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১ (এসআরবি) নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার শাকিল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর একই মামলার প্রধান আসামি ও শাকিলের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার কালী বাজার সড়কে ব্যবসায়ী শাহেদ আলমের দোকানে যান দেলোয়ার। তার সঙ্গে পেট্রোলভর্তি একটি বোতল ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী শাহেদ আলমের দাবি, দোকানে প্রবেশের পর মালামালের ওপর পেট্রোল ছিটিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে সেখানে উপস্থিত আরেক ব্যবসায়ী কৃষ্ণ পালের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজেও একজন ব্যক্তিকে বোতল হাতে দোকানে প্রবেশ এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে থাকা এক ব্যক্তির শরীরে তরল পদার্থ ঢালতে দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় শাহেদ আলমকে মারধর করা হয়। দোকানের কর্মচারী সোহাগ বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দেলোয়ার, শাকিল ও তাদের ভাগনে মুন্না দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে শাহেদ আলম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন। এতে দেলোয়ারকে প্রধান আসামি এবং শাকিল ও মুন্নাকে আসামি করা হয়।
এসআরবি-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানিয়েছেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি হিসেবে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলায় উত্থাপিত চাঁদাবাজি, মারধর ও আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।