জনস্বার্থের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি নিষ্কাশন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন সড়ক ও বাঁধের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) টেকনাফে নাফ নদীর তীরবর্তী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে টেকনাফ উপজেলা পরিষদে স্থানীয় অংশীজন ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। সেখানে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, বাঁধ, পানি নিষ্কাশন এবং চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এ্যানি বলেন, সীমান্ত এলাকার ৬১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্প একাধিকবার সংশোধন করা হলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। একই প্রকল্প বারবার সংশোধন এবং অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়েও নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় স্থানীয় মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে যথাযথ পরিকল্পনা ও সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় প্রকল্প ফেলে রাখার সুযোগ নেই এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে হবে।
সীমান্ত সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন এবং পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
সফরে নাফ নদীর তীরবর্তী পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন প্রকল্পও পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ এখনো এর প্রত্যাশিত সুফল পাননি। প্রকল্পের কাঠামো ও সমীক্ষায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আযাদ জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্লুইসগেট নাকি সেতু নির্মাণ বেশি কার্যকর হবে, তা স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি কারিগরি দল এলাকা পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য মতামত দেবে।
২০১৭ সালে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া নাফ নদীর তীরবর্তী পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্পের ব্যয় পরে বেড়ে ৪১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সরকারি হিসাবে প্রকল্পটির অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, পানি নিষ্কাশন, খাল পুনঃখনন এবং সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ রয়েছে।
পরিদর্শন ও মতবিনিময়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আযাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিন, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।