এশিয়ান গেমসে দীর্ঘ ৪০ বছর পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক নিশ্চিত করার পথে বাংলাদেশ। নারী উশুর ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের জিন্নাত আক্তার। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে ওঠায় অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয়েছে তার।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে জিন্নাতের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা থারিসা। তবে নির্ধারিত ওজনসীমা অতিক্রম করায় ইন্দোনেশিয়ান প্রতিযোগী অযোগ্য ঘোষিত হন। ফলে ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে উঠে যান জিন্নাত।
বাংলাদেশ উশু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও দলের কোচ দিলদার হাসান দিলু জানিয়েছেন, এই ওজন শ্রেণিতে মোট ১৫ জন প্রতিযোগী রয়েছেন। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে পরাজিত দুই খেলোয়াড়ই ব্রোঞ্জ পদক পাবেন। ফলে জিন্নাতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি পদকও নিশ্চিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদও পদক নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। উশু দলের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নারী ৫২ কেজি বিভাগে ১৫ জন প্রতিযোগী নকআউট পদ্ধতিতে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিযোগী জিন্নাত প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়েছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে তার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ফ্লোরেন্তিনার। ইন্দোনেশিয়ার এই অ্যাথলেট আগের রাউন্ডে ফিলিপাইনের প্রতিযোগীকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন। তবে ওজনসংক্রান্ত কারণে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় জিন্নাত সরাসরি শেষ চারে জায়গা পান।
এই পদক বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বাংলাদেশ ১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে। ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সিংয়ে মোশাররফ হোসেন ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। সেটিই এতদিন ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র এশিয়াড পদক ছিল। বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান গেমস পদকও ছিল সেটি।
এরপর কাবাডি ও ক্রিকেটের মতো দলীয় ইভেন্টে বাংলাদেশ একাধিক পদক জিতলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে আর কেউ পদকের দেখা পাননি। সর্বশেষ হাংজু এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দল দুটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল।
ফলে জিন্নাতের পদক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত ইভেন্টে এশিয়ান গেমসের পদক পাবে বাংলাদেশ। চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে উশুর হাত ধরে।