ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১,০৫৭, সন্দেহভাজন আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার

দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১,০৫৭, সন্দেহভাজন আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার
ফাইল ছবি
ফলো করুন

দেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ছোট শিশুদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫৬ জনের। এ সময় সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ জনে। পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হয়েছে ২০ হাজার ৫৬২ জনের।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৪৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং পরীক্ষায় ৮৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের সঙ্গে এসব পরিসংখ্যান সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেও হাম আক্রান্ত শিশুদের চাপ রয়েছে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের অক্সিজেন, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় কোনো কোনো পরিবারকে শয্যার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদানের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা স্বজনদের কয়েকজন রোগীর চাপের কারণে ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় আসা আয়েশা আক্তার জানান, অন্য একটি হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় তাদের মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শুরুতে সেখানেও শয্যা পাওয়া যায়নি, পরে একটি শয্যার ব্যবস্থা হয়।

আরেক অভিভাবক আবদুর রহিম জানান, প্রথমে বাড়িতেই তার ছেলের চিকিৎসা চলছিল। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসক শিশুটির মধ্যে হামের উপসর্গ দেখতে পেয়ে সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

চলতি বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত এপ্রিলে জানায়, তখন দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় শনাক্ত রোগীদের বড় অংশ ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হাম-রুবেলা টিকার দেশব্যাপী মজুত সংকট, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম না থাকায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে টিকা না পাওয়া বা প্রয়োজনীয় ডোজ সম্পন্ন না করা অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েছে।

প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য অংশীদারের সহযোগিতায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথমে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু হলেও পরে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম ২০ এপ্রিল শুরু হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, টিকা না পাওয়া শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে সুরক্ষার আওতায় আনা এবং রোগ নজরদারি জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি হাম নিয়ন্ত্রণে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

ট্যাগ : হাম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
শুক্রবার৬
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫০ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৭ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪২ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৯ বিকাল
  • এশা৬:৩৫ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৭ ভোরইফতার ৫:১৯ বিকাল

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১,০৫৭, সন্দেহভাজন আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ছোট শিশুদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫৬ জনের। এ সময় সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ জনে। পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হয়েছে ২০ হাজার ৫৬২ জনের।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৪৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং পরীক্ষায় ৮৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের সঙ্গে এসব পরিসংখ্যান সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেও হাম আক্রান্ত শিশুদের চাপ রয়েছে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের অক্সিজেন, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় কোনো কোনো পরিবারকে শয্যার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদানের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা স্বজনদের কয়েকজন রোগীর চাপের কারণে ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় আসা আয়েশা আক্তার জানান, অন্য একটি হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় তাদের মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শুরুতে সেখানেও শয্যা পাওয়া যায়নি, পরে একটি শয্যার ব্যবস্থা হয়।

আরেক অভিভাবক আবদুর রহিম জানান, প্রথমে বাড়িতেই তার ছেলের চিকিৎসা চলছিল। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসক শিশুটির মধ্যে হামের উপসর্গ দেখতে পেয়ে সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

চলতি বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত এপ্রিলে জানায়, তখন দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় শনাক্ত রোগীদের বড় অংশ ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হাম-রুবেলা টিকার দেশব্যাপী মজুত সংকট, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম না থাকায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে টিকা না পাওয়া বা প্রয়োজনীয় ডোজ সম্পন্ন না করা অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েছে।

প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য অংশীদারের সহযোগিতায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথমে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু হলেও পরে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম ২০ এপ্রিল শুরু হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, টিকা না পাওয়া শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে সুরক্ষার আওতায় আনা এবং রোগ নজরদারি জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি হাম নিয়ন্ত্রণে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ