যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিপুল বিজয়ের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদচ্যুত করতে এবং তাঁর ওপর দ্বিমুখী রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে একযোগে তৎপর হয়ে উঠেছেন আইনপ্রণেতারা। ইরান যুদ্ধ পরিচালনা, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত এবং একের পর এক অভ্যন্তরীণ কেলেঙ্কারিতে বিতর্কিত ভূমিকা রাখার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সংসদীয় তদন্ত ও অভিশংসন (Impeachment) প্রস্তাব আনার পূর্ণ প্রস্তুতি চলছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল ও এএফপির বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্য বক্তব্যে হেগসেথের পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন তিনি ‘খুব ভালো কাজ করছেন’। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের পেছনে খোদ ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দুজনই পরোক্ষভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই ইরান যুদ্ধকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অথচ এই সংঘাতের সবচেয়ে কট্টর সমর্থক ও প্রধান মুখপাত্র ছিলেন স্বয়ং হেগসেথ।
কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি ও গভীর তদন্ত শুরুর পূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি সামরিক বরাদ্দ ও যুদ্ধ পরিচালনার বিশেষ অর্থায়ন কমিয়ে দিয়ে হেগসেথ ও পেন্টাগনকে কার্যত অচল করে দেওয়ার সুযোগও এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে।
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জেসন ক্রো কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি হেগসেথের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, হেগসেথ চরম ‘অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং তাঁর অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও রণাঙ্গনের সেনাদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ নিশ্চিত করেছেন, পেন্টাগন ও ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রমের বৈধতা এবং ইরান যুদ্ধ শুরুর আইনি ভিত্তি নিয়ে কংগ্রেসে কঠোর তদন্ত চালানো হবে।
তবে হেগসেথ কেবল বিরোধী দলের আক্রমণেই নয়, নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও তীব্র বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছেন। বিদায়ী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা থমাস ম্যাসি জানিয়েছেন, কংগ্রেসের আগামী অধিবেশন শুরু হলেই তিনি আগামী সপ্তাহে হেগসেথের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। ম্যাসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘হেগসেথ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেই কেবল আমি এই অভিশংসন প্রস্তাব তোলা থেকে বিরত থাকব, অন্যথায় নয়।’ এর আগেও তিনি অভিশংসনের উদ্যোগ নিলেও অধিবেশন মুলতবি করে বিষয়টি সাময়িকভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা নাটকীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক হেগসেথ। ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সময়সূচি আলোচনার জন্য পেন্টাগনের শীর্ষ কর্তাদের গঠিত একটি সংবেদনশীল 'সিগন্যাল' গ্রুপ চ্যাটে ভুলবশত যুক্ত করে নেওয়া হয়েছিল দ্য আটলান্টিক সাময়িকীর প্রধান সম্পাদককে, যা মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ফাঁকফোকর হিসেবে সমালোচিত হয়। এছাড়া পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক পাচারবিরোধী অভিযানের নামে বিতর্কিত হামলা এবং পেন্টাগনের প্রবীণ সামরিক জেনারেলদের একতরফা বরখাস্ত করার বিষয়গুলোও এখন নতুন কংগ্রেসের তদন্তের প্রধান বিষয়বস্তু হতে চলেছে।
সূত্র: এএফপি














মন্তব্যসমূহ