মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মিসরের রাজধানী কায়রোয় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
র্যাটক্লিফের এই সফরকে বিরল সফর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদও উপস্থিত ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে সিআইএ পরিচালক হঠাৎ মিসর সফর করেছেন, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান, গাজা ও সুদানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য তৈরি হওয়া হুমকির বিষয়ও বৈঠকে উঠে আসে।
বৈঠকে সিসি আঞ্চলিক সংকটগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন। মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক সংকট নিরসনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন সিসি।
এর একদিন আগে শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দপ্তরটি সতর্ক করে বলেছিল, এই সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।
র্যাটক্লিফের কায়রো সফরের কয়েক দিন আগে মিসর সফর করেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গে বৈঠকে তারা ইয়েমেনের হুথিদের আকস্মিক অভিযানে দেশটির উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে মিসরের ভূমিকা রয়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অন্যতম বড় গ্রহীতা। অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে কায়রো নিজেকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।
একই সঙ্গে ইসরাইল, হামাস ও ইরানসহ পরস্পরবিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের পথও খোলা রেখেছে মিসর। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির কূটনৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।