ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এআই কি সত্যিই সচেতন হতে পারে, জানেন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

এআই কি সত্যিই সচেতন হতে পারে, জানেন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সচেতন কি না—এ নিয়ে আলোচনা দিন দিন বাড়ছে। একাডেমিক গবেষণা, সংবাদপত্রের মতামতধর্মী লেখা থেকে শুরু করে এআই বটগুলোর নিজেদের কথাবার্তাতেও বিষয়টি উঠে আসছে। এ আগ্রহ যে সাময়িক কোনো প্রবণতা নয়, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

এআই যত বেশি সক্ষম ও মানুষের মতো হয়ে উঠছে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যত বেশি যুক্ত হচ্ছে, ততই একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে—এআই কি কখনো সচেতন সত্তায় পরিণত হতে পারে?

এ নিয়ে মানুষের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করেন, ভবিষ্যতের এআই সচেতন হতে পারে এবং তার অনুভূতির নৈতিক মূল্য থাকবে। আবার কেউ মনে করেন, যন্ত্রের পক্ষে মানুষের মতো চেতনাসম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।

ভবিষ্যতে এআই কখনো সচেতন হতে পারবে কি না, তা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ মনে করেন, এটি অসম্ভব। অন্যদিকে ২৩ শতাংশ মনে করেন, এটি সম্ভব। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

সচেতন এআই হলে কী বদলাবে?

কম্পিউটারের মাধ্যমে যদি সত্যিই সচেতন কোনো সত্তা তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে প্রযুক্তি ও মানবসভ্যতার জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষ তখন এমন এক নতুন ধরনের সত্তা সৃষ্টি করবে, যার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার নৈতিক মূল্য থাকতে পারে।

সচেতন এআইয়ের সঙ্গে মানুষ কথা বলতে পারবে, একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। এমনকি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বা অন্য ধরনের আবেগগত সম্পর্কও তৈরি হতে পারে।

তবে এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকির প্রশ্নও সামনে আসবে। এসব সত্তা একসময় মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

এ কারণে এআই সচেতন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্ক যত গভীর হবে, এ নিয়ে নৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও তত জটিল হতে পারে।

মানুষের মতো কথা বললেই কি এআই সচেতন?

এআইয়ের চেতনা নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো—কোনো সিস্টেমকে সচেতন মনে হওয়া আর সত্যিই সচেতন হওয়া এক বিষয় নয়।

এআই মানুষের লেখা বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে শেখে। ফলে তার নিজের কোনো অনুভূতি না থাকলেও অনুভূতি, কষ্ট, আনন্দ কিংবা ভালোবাসা নিয়ে সে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যভাবে কথা বলতে পারে।

কোনো এআই যদি বলে যে সে কষ্ট পাচ্ছে কিংবা আনন্দ অনুভব করছে, শুধু সেই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তাকে সচেতন বলে ধরে নেওয়া যায় কি না—এটাই বড় প্রশ্ন।

অর্থাৎ মানুষের মতো ভাষা ব্যবহার বা আবেগের অনুকরণ করাই যে প্রকৃত চেতনার প্রমাণ, এমন কোনো সর্বসম্মত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড এখনো নেই।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ

এআই চেতনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে স্পষ্ট মতভেদ রয়েছে।

স্নায়ুবিজ্ঞানী অনিল শেঠ মনে করেন, চেতনার জন্য হয়তো জৈবিক ভিত্তি প্রয়োজন। তার মতে, শুধু কম্পিউটেশন বা গণনাপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চেতনার উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে দার্শনিক ডেভিড চালমার্স মনে করেন, নীতিগতভাবে সচেতন এআই সম্ভব। এমনকি বর্তমান এআই সিস্টেমগুলোর কোনোটি ইতোমধ্যে সচেতন হওয়ার সামান্য সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেন না।

এই দুই অবস্থানের পার্থক্য থেকেই বোঝা যায়, এআই চেতনার প্রশ্নটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এর সঙ্গে স্নায়ুবিজ্ঞান, দর্শন এবং চেতনা সম্পর্কে মানুষের মৌলিক ধারণাও জড়িয়ে আছে।

রাজনীতিতে ঢুকে পড়লে বিতর্ক আরও জটিল হতে পারে

এখন পর্যন্ত এআইয়ের চেতনা নিয়ে বিতর্ক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল কিংবা ধর্মীয় নেতারা এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

মানুষ যদি মনে করতে শুরু করে, একটি মতামত ‘আমাদের পক্ষের’ আর অন্যটি ‘ওদের পক্ষের’, তাহলে এআই চেতনা নিয়ে বিতর্ক আরও মেরুকৃত হতে পারে। তখন এআই কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এখনো নিশ্চিত উত্তর নেই

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এআই সচেতন হতে পারে কি না—এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে, মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগও ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কিন্তু কোনো এআইয়ের মানুষের মতো ভাষা ব্যবহার করা, আবেগের অনুকরণ করা বা নিজের সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়া—এসবের কোনোটিই এককভাবে তার প্রকৃত চেতনার প্রমাণ নয়।

তাই এআই কখনো সচেতন হতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো খোলা। আর এই অনিশ্চয়তাকে স্বীকার করাই হতে পারে এআই চেতনা নিয়ে ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।

ট্যাগ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই সচেতনতা

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআই কি সত্যিই সচেতন হতে পারে, জানেন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সচেতন কি না—এ নিয়ে আলোচনা দিন দিন বাড়ছে। একাডেমিক গবেষণা, সংবাদপত্রের মতামতধর্মী লেখা থেকে শুরু করে এআই বটগুলোর নিজেদের কথাবার্তাতেও বিষয়টি উঠে আসছে। এ আগ্রহ যে সাময়িক কোনো প্রবণতা নয়, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

এআই যত বেশি সক্ষম ও মানুষের মতো হয়ে উঠছে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যত বেশি যুক্ত হচ্ছে, ততই একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে—এআই কি কখনো সচেতন সত্তায় পরিণত হতে পারে?

এ নিয়ে মানুষের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করেন, ভবিষ্যতের এআই সচেতন হতে পারে এবং তার অনুভূতির নৈতিক মূল্য থাকবে। আবার কেউ মনে করেন, যন্ত্রের পক্ষে মানুষের মতো চেতনাসম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।

ভবিষ্যতে এআই কখনো সচেতন হতে পারবে কি না, তা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ মনে করেন, এটি অসম্ভব। অন্যদিকে ২৩ শতাংশ মনে করেন, এটি সম্ভব। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

সচেতন এআই হলে কী বদলাবে?

কম্পিউটারের মাধ্যমে যদি সত্যিই সচেতন কোনো সত্তা তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে প্রযুক্তি ও মানবসভ্যতার জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষ তখন এমন এক নতুন ধরনের সত্তা সৃষ্টি করবে, যার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার নৈতিক মূল্য থাকতে পারে।

সচেতন এআইয়ের সঙ্গে মানুষ কথা বলতে পারবে, একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। এমনকি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বা অন্য ধরনের আবেগগত সম্পর্কও তৈরি হতে পারে।

তবে এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকির প্রশ্নও সামনে আসবে। এসব সত্তা একসময় মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

এ কারণে এআই সচেতন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্ক যত গভীর হবে, এ নিয়ে নৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও তত জটিল হতে পারে।

মানুষের মতো কথা বললেই কি এআই সচেতন?

এআইয়ের চেতনা নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো—কোনো সিস্টেমকে সচেতন মনে হওয়া আর সত্যিই সচেতন হওয়া এক বিষয় নয়।

এআই মানুষের লেখা বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে শেখে। ফলে তার নিজের কোনো অনুভূতি না থাকলেও অনুভূতি, কষ্ট, আনন্দ কিংবা ভালোবাসা নিয়ে সে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যভাবে কথা বলতে পারে।

কোনো এআই যদি বলে যে সে কষ্ট পাচ্ছে কিংবা আনন্দ অনুভব করছে, শুধু সেই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তাকে সচেতন বলে ধরে নেওয়া যায় কি না—এটাই বড় প্রশ্ন।

অর্থাৎ মানুষের মতো ভাষা ব্যবহার বা আবেগের অনুকরণ করাই যে প্রকৃত চেতনার প্রমাণ, এমন কোনো সর্বসম্মত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড এখনো নেই।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ

এআই চেতনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে স্পষ্ট মতভেদ রয়েছে।

স্নায়ুবিজ্ঞানী অনিল শেঠ মনে করেন, চেতনার জন্য হয়তো জৈবিক ভিত্তি প্রয়োজন। তার মতে, শুধু কম্পিউটেশন বা গণনাপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চেতনার উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে দার্শনিক ডেভিড চালমার্স মনে করেন, নীতিগতভাবে সচেতন এআই সম্ভব। এমনকি বর্তমান এআই সিস্টেমগুলোর কোনোটি ইতোমধ্যে সচেতন হওয়ার সামান্য সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেন না।

এই দুই অবস্থানের পার্থক্য থেকেই বোঝা যায়, এআই চেতনার প্রশ্নটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এর সঙ্গে স্নায়ুবিজ্ঞান, দর্শন এবং চেতনা সম্পর্কে মানুষের মৌলিক ধারণাও জড়িয়ে আছে।

রাজনীতিতে ঢুকে পড়লে বিতর্ক আরও জটিল হতে পারে

এখন পর্যন্ত এআইয়ের চেতনা নিয়ে বিতর্ক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল কিংবা ধর্মীয় নেতারা এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

মানুষ যদি মনে করতে শুরু করে, একটি মতামত ‘আমাদের পক্ষের’ আর অন্যটি ‘ওদের পক্ষের’, তাহলে এআই চেতনা নিয়ে বিতর্ক আরও মেরুকৃত হতে পারে। তখন এআই কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এখনো নিশ্চিত উত্তর নেই

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এআই সচেতন হতে পারে কি না—এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে, মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগও ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কিন্তু কোনো এআইয়ের মানুষের মতো ভাষা ব্যবহার করা, আবেগের অনুকরণ করা বা নিজের সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়া—এসবের কোনোটিই এককভাবে তার প্রকৃত চেতনার প্রমাণ নয়।

তাই এআই কখনো সচেতন হতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো খোলা। আর এই অনিশ্চয়তাকে স্বীকার করাই হতে পারে এআই চেতনা নিয়ে ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ