ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এআই কি সত্যিই সচেতন হতে পারে, জানেন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

এআই কি সত্যিই সচেতন হতে পারে, জানেন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সচেতন কি না—এ নিয়ে আলোচনা দিন দিন বাড়ছে। একাডেমিক গবেষণা, সংবাদপত্রের মতামতধর্মী লেখা থেকে শুরু করে এআই বটগুলোর নিজেদের কথাবার্তাতেও বিষয়টি উঠে আসছে। এ আগ্রহ যে সাময়িক কোনো প্রবণতা নয়, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

এআই যত বেশি সক্ষম ও মানুষের মতো হয়ে উঠছে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যত বেশি যুক্ত হচ্ছে, ততই একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে—এআই কি কখনো সচেতন সত্তায় পরিণত হতে পারে?

এ নিয়ে মানুষের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করেন, ভবিষ্যতের এআই সচেতন হতে পারে এবং তার অনুভূতির নৈতিক মূল্য থাকবে। আবার কেউ মনে করেন, যন্ত্রের পক্ষে মানুষের মতো চেতনাসম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।

ভবিষ্যতে এআই কখনো সচেতন হতে পারবে কি না, তা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ মনে করেন, এটি অসম্ভব। অন্যদিকে ২৩ শতাংশ মনে করেন, এটি সম্ভব। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

সচেতন এআই হলে কী বদলাবে?

কম্পিউটারের মাধ্যমে যদি সত্যিই সচেতন কোনো সত্তা তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে প্রযুক্তি ও মানবসভ্যতার জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষ তখন এমন এক নতুন ধরনের সত্তা সৃষ্টি করবে, যার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার নৈতিক মূল্য থাকতে পারে।

সচেতন এআইয়ের সঙ্গে মানুষ কথা বলতে পারবে, একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। এমনকি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বা অন্য ধরনের আবেগগত সম্পর্কও তৈরি হতে পারে।

তবে এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকির প্রশ্নও সামনে আসবে। এসব সত্তা একসময় মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

এ কারণে এআই সচেতন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্ক যত গভীর হবে, এ নিয়ে নৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও তত জটিল হতে পারে।

মানুষের মতো কথা বললেই কি এআই সচেতন?

এআইয়ের চেতনা নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো—কোনো সিস্টেমকে সচেতন মনে হওয়া আর সত্যিই সচেতন হওয়া এক বিষয় নয়।

এআই মানুষের লেখা বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে শেখে। ফলে তার নিজের কোনো অনুভূতি না থাকলেও অনুভূতি, কষ্ট, আনন্দ কিংবা ভালোবাসা নিয়ে সে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যভাবে কথা বলতে পারে।

কোনো এআই যদি বলে যে সে কষ্ট পাচ্ছে কিংবা আনন্দ অনুভব করছে, শুধু সেই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তাকে সচেতন বলে ধরে নেওয়া যায় কি না—এটাই বড় প্রশ্ন।

অর্থাৎ মানুষের মতো ভাষা ব্যবহার বা আবেগের অনুকরণ করাই যে প্রকৃত চেতনার প্রমাণ, এমন কোনো সর্বসম্মত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড এখনো নেই।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ

এআই চেতনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে স্পষ্ট মতভেদ রয়েছে।

স্নায়ুবিজ্ঞানী অনিল শেঠ মনে করেন, চেতনার জন্য হয়তো জৈবিক ভিত্তি প্রয়োজন। তার মতে, শুধু কম্পিউটেশন বা গণনাপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চেতনার উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে দার্শনিক ডেভিড চালমার্স মনে করেন, নীতিগতভাবে সচেতন এআই সম্ভব। এমনকি বর্তমান এআই সিস্টেমগুলোর কোনোটি ইতোমধ্যে সচেতন হওয়ার সামান্য সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেন না।

এই দুই অবস্থানের পার্থক্য থেকেই বোঝা যায়, এআই চেতনার প্রশ্নটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এর সঙ্গে স্নায়ুবিজ্ঞান, দর্শন এবং চেতনা সম্পর্কে মানুষের মৌলিক ধারণাও জড়িয়ে আছে।

রাজনীতিতে ঢুকে পড়লে বিতর্ক আরও জটিল হতে পারে

এখন পর্যন্ত এআইয়ের চেতনা নিয়ে বিতর্ক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল কিংবা ধর্মীয় নেতারা এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

মানুষ যদি মনে করতে শুরু করে, একটি মতামত ‘আমাদের পক্ষের’ আর অন্যটি ‘ওদের পক্ষের’, তাহলে এআই চেতনা নিয়ে বিতর্ক আরও মেরুকৃত হতে পারে। তখন এআই কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এখনো নিশ্চিত উত্তর নেই

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এআই সচেতন হতে পারে কি না—এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে, মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগও ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কিন্তু কোনো এআইয়ের মানুষের মতো ভাষা ব্যবহার করা, আবেগের অনুকরণ করা বা নিজের সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়া—এসবের কোনোটিই এককভাবে তার প্রকৃত চেতনার প্রমাণ নয়।

তাই এআই কখনো সচেতন হতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো খোলা। আর এই অনিশ্চয়তাকে স্বীকার করাই হতে পারে এআই চেতনা নিয়ে ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।

ট্যাগ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই সচেতনতা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
শুক্রবার৬
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫০ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৭ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪২ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৯ বিকাল
  • এশা৬:৩৫ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৭ ভোরইফতার ৫:১৯ বিকাল

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


এআই কি সত্যিই সচেতন হতে পারে, জানেন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সচেতন কি না—এ নিয়ে আলোচনা দিন দিন বাড়ছে। একাডেমিক গবেষণা, সংবাদপত্রের মতামতধর্মী লেখা থেকে শুরু করে এআই বটগুলোর নিজেদের কথাবার্তাতেও বিষয়টি উঠে আসছে। এ আগ্রহ যে সাময়িক কোনো প্রবণতা নয়, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

এআই যত বেশি সক্ষম ও মানুষের মতো হয়ে উঠছে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যত বেশি যুক্ত হচ্ছে, ততই একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে—এআই কি কখনো সচেতন সত্তায় পরিণত হতে পারে?

এ নিয়ে মানুষের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করেন, ভবিষ্যতের এআই সচেতন হতে পারে এবং তার অনুভূতির নৈতিক মূল্য থাকবে। আবার কেউ মনে করেন, যন্ত্রের পক্ষে মানুষের মতো চেতনাসম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।

ভবিষ্যতে এআই কখনো সচেতন হতে পারবে কি না, তা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ মনে করেন, এটি অসম্ভব। অন্যদিকে ২৩ শতাংশ মনে করেন, এটি সম্ভব। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

সচেতন এআই হলে কী বদলাবে?

কম্পিউটারের মাধ্যমে যদি সত্যিই সচেতন কোনো সত্তা তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে প্রযুক্তি ও মানবসভ্যতার জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষ তখন এমন এক নতুন ধরনের সত্তা সৃষ্টি করবে, যার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার নৈতিক মূল্য থাকতে পারে।

সচেতন এআইয়ের সঙ্গে মানুষ কথা বলতে পারবে, একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। এমনকি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বা অন্য ধরনের আবেগগত সম্পর্কও তৈরি হতে পারে।

তবে এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকির প্রশ্নও সামনে আসবে। এসব সত্তা একসময় মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

এ কারণে এআই সচেতন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্ক যত গভীর হবে, এ নিয়ে নৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও তত জটিল হতে পারে।

মানুষের মতো কথা বললেই কি এআই সচেতন?

এআইয়ের চেতনা নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো—কোনো সিস্টেমকে সচেতন মনে হওয়া আর সত্যিই সচেতন হওয়া এক বিষয় নয়।

এআই মানুষের লেখা বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে শেখে। ফলে তার নিজের কোনো অনুভূতি না থাকলেও অনুভূতি, কষ্ট, আনন্দ কিংবা ভালোবাসা নিয়ে সে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যভাবে কথা বলতে পারে।

কোনো এআই যদি বলে যে সে কষ্ট পাচ্ছে কিংবা আনন্দ অনুভব করছে, শুধু সেই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তাকে সচেতন বলে ধরে নেওয়া যায় কি না—এটাই বড় প্রশ্ন।

অর্থাৎ মানুষের মতো ভাষা ব্যবহার বা আবেগের অনুকরণ করাই যে প্রকৃত চেতনার প্রমাণ, এমন কোনো সর্বসম্মত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড এখনো নেই।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ

এআই চেতনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে স্পষ্ট মতভেদ রয়েছে।

স্নায়ুবিজ্ঞানী অনিল শেঠ মনে করেন, চেতনার জন্য হয়তো জৈবিক ভিত্তি প্রয়োজন। তার মতে, শুধু কম্পিউটেশন বা গণনাপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চেতনার উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে দার্শনিক ডেভিড চালমার্স মনে করেন, নীতিগতভাবে সচেতন এআই সম্ভব। এমনকি বর্তমান এআই সিস্টেমগুলোর কোনোটি ইতোমধ্যে সচেতন হওয়ার সামান্য সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেন না।

এই দুই অবস্থানের পার্থক্য থেকেই বোঝা যায়, এআই চেতনার প্রশ্নটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এর সঙ্গে স্নায়ুবিজ্ঞান, দর্শন এবং চেতনা সম্পর্কে মানুষের মৌলিক ধারণাও জড়িয়ে আছে।

রাজনীতিতে ঢুকে পড়লে বিতর্ক আরও জটিল হতে পারে

এখন পর্যন্ত এআইয়ের চেতনা নিয়ে বিতর্ক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল কিংবা ধর্মীয় নেতারা এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

মানুষ যদি মনে করতে শুরু করে, একটি মতামত ‘আমাদের পক্ষের’ আর অন্যটি ‘ওদের পক্ষের’, তাহলে এআই চেতনা নিয়ে বিতর্ক আরও মেরুকৃত হতে পারে। তখন এআই কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এখনো নিশ্চিত উত্তর নেই

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এআই সচেতন হতে পারে কি না—এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে, মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগও ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কিন্তু কোনো এআইয়ের মানুষের মতো ভাষা ব্যবহার করা, আবেগের অনুকরণ করা বা নিজের সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়া—এসবের কোনোটিই এককভাবে তার প্রকৃত চেতনার প্রমাণ নয়।

তাই এআই কখনো সচেতন হতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো খোলা। আর এই অনিশ্চয়তাকে স্বীকার করাই হতে পারে এআই চেতনা নিয়ে ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ