জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ উদ্যোগ নিচ্ছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশন ঘিরেও এআই আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হতে পারে।
এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারি বিধিনিষেধ আরোপের বিভিন্ন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এআই নিয়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির আশঙ্কাকে তিনি ‘প্রতারণা’ বা ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তার প্রশাসনের অবস্থানে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও আলোচনার প্রস্তুতি রয়েছে। এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা যেসব উদ্বেগ তুলে ধরছেন, সেগুলো আলোচনায় আসতে পারে।
ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের এআই ও নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এবং পাবলিক ডিপ্লোম্যাসিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ রজার্সের।
আয়োজন সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অংশীদারত্ব বাড়ানোর সুযোগ হিসেবেও অনুষ্ঠানটিকে তুলে ধরতে চায় ওয়াশিংটন। এআই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার সহজ করতে নীতি, আইন ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো কেমন হওয়া উচিত, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।
জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের এআই ও ডিজিটাল সহযোগিতাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্লেয়ার মেলামেদের মতে, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে এআই নিয়ে অনেক পার্শ্ব-আয়োজন থাকলেও জাতিসংঘের মূল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রযুক্তিটি কতটা গুরুত্ব পাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
তার মতে, এআই নিয়ে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা কী হতে পারে, সেটি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো চলছে। বিশেষ করে সীমান্ত অতিক্রমকারী এআই-নির্ভর সাইবার হামলার মতো বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও সহায়তার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কী ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
এআই পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতে যেসব আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা সুরক্ষাকবচ তৈরি হতে পারে, সেগুলোতে সব দেশের সমান অংশগ্রহণ ও সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও জাতিসংঘের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার পর তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে করছেন না মেলামেদ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে এআই নিয়ে ভিন্ন অবস্থান থাকায় ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলে তার ধারণা।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। ফলে জাতিসংঘের অধিবেশন ঘিরে এআইয়ের নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন।