মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন হামলার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ইমামরা। পবিত্র স্থানকে হুমকির মুখে ফেলার ঘটনাকে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার খুতবায় মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলা বলেন, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষা কোনোভাবেই আপসের বিষয় নয়।
তিনি বলেন, মুসলমানদের পবিত্রতম স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার চেষ্টা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হুথিরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে ধর্মীয় বক্তব্য ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একই দিন মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মহসিন আল-কাসিমও হুথিদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার ঘটনা নিরপরাধ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।
দুই ইমামের এই বক্তব্যের কয়েক দিন আগে মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করে সৌদি আরব।
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সামরিক জোটের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করেছে জোট।
সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের দ্বিতীয় হামলার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল।
শেখ বান্দার বালিলা বলেন, এ ধরনের ঘটনা সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও জনগণের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে। মুসলমানদের কিবলা ও পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার প্রচেষ্টার পর সৌদি আরবের পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থাও এর নিন্দা জানিয়েছে। সৌদি সরকার জানিয়েছে, দুই পবিত্র মসজিদ, সেখানে আসা মুসল্লি ও হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: সৌদি গেজেট