সরকারি অর্থে খনন ও পুনঃখনন করা খালগুলোকে শুধু পানি নিষ্কাশন কিংবা জলাবদ্ধতা নিরসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শনিবার রাজধানীর কেআইবি সম্মেলন কেন্দ্রে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি অর্থে খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছে। এসব খাল পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আয়বর্ধক কার্যক্রম ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
তার মতে, একটি খাল খননের পর সেটিকে কেবল অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করলে হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে খালটির ব্যবহার কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেই পরিকল্পনাও থাকতে হবে। একই সঙ্গে খালের যথাযথ ব্যবহার ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিগুলোতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, প্রচলিত ত্রাণ ও সহায়তানির্ভর কার্যক্রমের পাশাপাশি এমন প্রকল্প নিতে হবে, যা মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।
এ ধরনের উদ্যোগ দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
কর্মসংস্থান তৈরিতে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। সব এলাকায় একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিবর্তে স্থানীয় পরিবেশ, মানুষের প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজারব্যবস্থা বিবেচনা করে প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সম্ভাবনাময় আয়বর্ধক কার্যক্রম হিসেবে মাশরুম চাষের উদাহরণ দেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানান, একটি মাশরুম চাষের উদ্যোগ পরিদর্শন করে এর সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। একজন নারী উদ্যোক্তা তার খামারে মাশরুম উৎপাদন করে উদ্যোগটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, মাশরুম চাষে তুলনামূলকভাবে কম পুঁজির প্রয়োজন হয় এবং এর বাজারও রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া গেলে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ মাশরুম চাষের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
স্থানীয় পর্যায়ে প্রথমে ছোট পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করে সফলতার ভিত্তিতে তা সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরাসরি সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
নতুন এসব ধারণার কার্যকারিতা যাচাই করতে চলতি বছর প্রাথমিকভাবে ২৫টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কর্মসূচির ফলাফল মূল্যায়নের পর সফল উদ্যোগগুলো পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে।
সম্মেলনে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা, সম্ভাবনা ও অভিজ্ঞতা নিয়েও আলোচনা হয়।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারের কর্মসূচির প্রকৃত সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এজন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজ শুধু দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের জীবিকা পুনর্গঠনের ব্যবস্থাও এ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এজন্য মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ত্রাণমন্ত্রী।
সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।