ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি হলে শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি হলে শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী
প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি বা ভুলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার ফল চ্যালেঞ্জ করার পর ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে খাতা মূল্যায়নের মান ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩০৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেল। তাহলে তো প্রশ্ন ওঠে—এত কীভাবে বাড়লো? এখন কি এ পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে না? যে শিক্ষক পরীক্ষকরা খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদের শাস্তির মুখে পড়তেই হবে।’

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সময়মতো বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শিক্ষা খাতে বিদ্যমান নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ড. মিলন। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কোর্স চালু করতে হবে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন ডিগ্রি অর্জনের পর দীর্ঘদিন বেকার না থাকে, সে জন্য ব্যবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দেওয়ার কথা বলেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ল কলেজগুলোর ফরম পূরণের ফি বাড়ানোর বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয় এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে। অনুষ্ঠানে ৫৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ট্যাগ : শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এসএসসি ২০২৬

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি হলে শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি বা ভুলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার ফল চ্যালেঞ্জ করার পর ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে খাতা মূল্যায়নের মান ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩০৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেল। তাহলে তো প্রশ্ন ওঠে—এত কীভাবে বাড়লো? এখন কি এ পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে না? যে শিক্ষক পরীক্ষকরা খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদের শাস্তির মুখে পড়তেই হবে।’

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সময়মতো বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শিক্ষা খাতে বিদ্যমান নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ড. মিলন। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কোর্স চালু করতে হবে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন ডিগ্রি অর্জনের পর দীর্ঘদিন বেকার না থাকে, সে জন্য ব্যবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দেওয়ার কথা বলেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ল কলেজগুলোর ফরম পূরণের ফি বাড়ানোর বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয় এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে। অনুষ্ঠানে ৫৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ