দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কারখানাটিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর প্রথমে অ্যামোনিয়া ইউনিট চালু করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে ইউরিয়া প্ল্যান্ট সচল করার কাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি সমস্যা দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা তা সমাধান করেন।
সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার উত্তম চৌধুরী জানিয়েছেন, গত মাসের শেষ দিকে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও কয়েকটি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়নি। পরে একে একে বিভিন্ন ইউনিট ও যন্ত্রপাতি সচল করা হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতির পর উৎপাদনে ফিরতে পারায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। নিয়মিত উৎপাদন অব্যাহত থাকলে বন্ধের সময়ের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রামের কাফকোর পাশেই অবস্থিত সিইউএফএল দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট এবং যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ধারাবাহিক উৎপাদন ধরে রাখতে পারছে না।
কারখানাটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন আনুমানিক ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। একসময় কারখানাটির দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। তবে দীর্ঘদিনের যান্ত্রিক সমস্যা ও অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহের কারণে বর্তমানে কার্যকর উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে।
সিইউএফএলের সাম্প্রতিক উৎপাদন ইতিহাসও ছিল অনিয়মিত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র কয়েক দিন চালু রাখা সম্ভব হয়েছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর কয়েক মাস পর আবার চালু করা হয়। ২০২৫ সালেও গ্যাস সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে একাধিকবার উৎপাদন বন্ধ ও চালু হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৪ মার্চ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়। দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় পর মঙ্গলবার আবার ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরল রাষ্ট্রায়ত্ত এই সার কারখানা।