ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীন সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকটি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। ইরান-ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং যুদ্ধের প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত থামাতে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে চীন। ওয়াং ই ও আরাগচির বৈঠকে যুদ্ধ পরিস্থিতি, উত্তেজনা কমানোর উপায় এবং সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর আগে গত জুলাইয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছিল। সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও দুজন অংশ নেন। সম্মেলনের ফাঁকে তাদের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করতে দেখা যায়।
চীনের জন্য ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি অঞ্চলটির অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক হওয়ায় হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা এবং ইরানকে ঘিরে নৌ চলাচলে বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব চীনের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে তেল পরিবহনে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বেইজিংয়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আরাগচির চীন সফরে চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, তেল সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সংঘাতের প্রভাব গুরুত্ব পেতে পারে।
দুই দেশের বৈঠক থেকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক উদ্যোগ কিংবা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কোনো বার্তা আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: আল-জাজিরা