যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নতুন উদ্বেগের মধ্যে চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজারে প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনাসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতুর দাম কমেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৭১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১১ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভোর মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাবে, চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এমন সম্ভাবনা বাজারে প্রায় ৮৯ শতাংশ ধরে নেওয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ।
গোল্ডম্যান স্যাকস ও এইচএসবিসিসহ কয়েকটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ধারণা করছে, ফেডের আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হতে পারে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে উচ্চ রিটার্ন পাওয়া সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও দরপতন হয়েছে। রুপার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৫৯ দশমিক ৮৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৯২ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স