বিয়েতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বর্তমান বৈবাহিক অবস্থা, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার জনস্বার্থে করা একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, কাবিননামার বর্তমান ফরমে এসব তথ্য রাখার ব্যবস্থা না থাকাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি নাগরিকদের পারিবারিক ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় কাবিননামার ফরম সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
চার সপ্তাহের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রিট আবেদনটি দায়ের করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও তানজিলা রহমান।
রিটে বলা হয়, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর-১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’-এ বর ও কনের আগের বা চলমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, তালাকের ইতিহাস, সন্তান এবং সংশ্লিষ্ট ভরণপোষণ বা অভিভাবকত্বের দায় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
আবেদনে আরও বলা হয়, কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিশি পরিষদের অনুমতি সম্পর্কিত কিছু তথ্য থাকলেও তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার স্পষ্ট ব্যবস্থা নেই। একইভাবে কনের পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও সমান ও কার্যকর কাঠামো নেই।
রিটকারীর দাবি, এ ধরনের ঘাটতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নতুন বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে প্রতারণা, পারিবারিক বিরোধ এবং ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে যাওয়া ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এবং আগের স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানদের আইনগত অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রিটে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনে উভয়ের আগের ও বর্তমান সব বিয়ের তথ্য, সন্তানদের বিবরণ, চলমান ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বের দায় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত ও যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।