আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বাড়াতে ১৭ ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট খাত থেকে মোট এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, প্রসাধনসামগ্রীর দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের ব্যবসা, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসা, পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড, সিমেন্ট, ফার্নিচার, মিষ্টির দোকান এবং রেস্তোরাঁকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নকে আগামী বাজেটের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আগামী অর্থবছরে এক লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে ৪১ লাখ নারীকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করতে এক হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে বছরে ছয় মাস ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন এবং লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজির আওতায় কাজ করছে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ জিডিপির ২.৭ শতাংশে নেওয়া এবং মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে এফডিআই হিট ম্যাপ প্রকাশ, নতুন ইপিজেড স্থাপন এবং কয়েকটি জেলায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় আড়াই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্তব্যসমূহ