ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অনলাইন জুয়ায় সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী

অনলাইন জুয়ায় সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী
ফলো করুন

অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬-এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬-এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি ও পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া এবং জুয়ার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনলাইন জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রচার, বিপণন বা সহায়তাও আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর বিএফআইইউ অনলাইন জুয়া নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে। ২০২৬ সালের মে মাসে ওই প্রতিবেদন অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কাছে পাঠানো হয়।

এরই মধ্যে সিআইডি এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ওপর বিএফআইইউ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আরও গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা জারি করেছিল।

ওই নির্দেশনায় এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা শনাক্ত করতে বলা হয়। কোনো মার্চেন্ট বা গ্রাহক এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইন জুয়া ও এর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থমন্ত্রী অনলাইন জুয়া

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অনলাইন জুয়ায় সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬-এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬-এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি ও পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া এবং জুয়ার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনলাইন জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রচার, বিপণন বা সহায়তাও আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর বিএফআইইউ অনলাইন জুয়া নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে। ২০২৬ সালের মে মাসে ওই প্রতিবেদন অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কাছে পাঠানো হয়।

এরই মধ্যে সিআইডি এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ওপর বিএফআইইউ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আরও গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা জারি করেছিল।

ওই নির্দেশনায় এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা শনাক্ত করতে বলা হয়। কোনো মার্চেন্ট বা গ্রাহক এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইন জুয়া ও এর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ