নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে নির্মাণাধীন বাস টার্মিনালের কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ।
বুধবার বিকেলে কাঁচপুর এলাকায় নির্মাণাধীন বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাঁচপুর বাস টার্মিনাল চালু করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। টার্মিনালটি চালু হলে যাত্রীরা আধুনিক ও উন্নত নাগরিক সেবা পাবেন।
তিনি জানান, রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালের কার্যক্রমের একটি অংশ কাঁচপুর ও কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হাবিবুর রশীদ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাস টার্মিনাল কার্যত ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন যানজটের দুর্ভোগে পড়ে।
বর্তমান সরকার এ সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং সড়ক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস টার্মিনালের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজ প্রায় ৪৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলমান সড়ক ও মহাসড়ক প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার কাজ করছে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এতে যান চলাচল আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান, আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এবং সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কর্মকর্তারা টার্মিনাল নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে জানান। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কাঁচপুর বাস টার্মিনাল চালু হলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপও কমতে পারে।