যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনো ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব ও সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকেই যে মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকারের বিরুদ্ধে লাগাতার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, সচেতন জনগণ অতীতে বারবার তাদের পরাজিত করেছে। পরাজিত সেই অপশক্তিগুলো বর্তমানে আবারও নতুন করে বিভিন্ন চক্রান্ত নিয়ে মাথাচাড়া দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের সম্মুখস্থ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এক উন্মুক্ত ট্রাকে দাঁড়িয়ে দেওয়া সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজকের এই ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে কোনো অবস্থাতেই দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, যতদিন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ টিকে থাকবে, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষার এই বৈপ্লবিক অগ্রযাত্রা ও র্যালি ততদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকবে।
এর আগে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষ্যে দুপুর ৩টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখভাগ থেকে সুবিশাল এই শোভাযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি নেতাকর্মীদের সাথে একই কাতারে অংশ নিয়ে এই ঐতিহাসিক পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল মোড়, হেয়ার রোড, প্রধান বিচারপতির বাসভবন, মিন্টো রোড ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করে। পরবর্তীতে বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এসে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।
ঐতিহাসিক এই শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে একই সারিতে অংশ নেন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও বিএনপির শীর্ষ নীতি-নির্ধারকেরা। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।














মন্তব্যসমূহ