ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সানা প্রদেশের আল-সারিয়াহ এলাকায় সৌদি যুদ্ধবিমান থেকে এ বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলে তাদের লক্ষ্য করেও আরও দুই দফা বিমান হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে হুথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে শুক্রবার ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়া শহরের একটি ব্যস্ত বাজারে চালানো অপর এক বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল হুথি বিদ্রোহীরা। ওই ঘটনায় হুথিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসাবাহি জানান, বাজারটিতে সৌদি জোটের যুদ্ধবিমান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যাতে আরও ৮ জন গুরুতর আহত হন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকের মরদেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার দাবি করেছে, বাজারটিতে কোনো সৌদি বিমান হামলা হয়নি, বরং হুথি বিদ্রোহীদের নিজস্ব ছোড়া মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আঘাত হানায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি আরবের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে আসা যুদ্ধবিমান সরাসরি বাজারটিতে হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে, যার অংশ হিসেবে রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চল রয়েছে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে তাইজ প্রদেশকে ঘিরে দুপক্ষের মধ্যকার সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে এবং পুরো ইয়েমেনের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বর থেকে হুথি বিদ্রোহীরা ব্যাপক সামরিক অভিযান জোরদার করায় আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: এএফপি














মন্তব্যসমূহ