ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কুরআনের আয়াত নিয়ে সংসদে বিতর্ক

কুরআনের আয়াত নিয়ে সংসদে বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা ঘিরে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়েছে। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপ ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বিরোধীদের সমালোচনা করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী। যারা আল্লাহর বান্দাদের বিরুদ্ধে বা অন্যায়ভাবে কৌশল করে, তাদের পরিণতি ভালো হয় না।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও জনমুখী কর্মকাণ্ড স্বীকার না করে যারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

তার বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আপত্তি জানান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট বক্তৃতায় কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের শামিল।

নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, পবিত্র কুরআনের আয়াতকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়, যাতে মনে হয় সরকারের প্রশংসা না করলে আল্লাহর আজাব নেমে আসবে। তিনি বলেন, কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং অতীতে কুরআনের অবমাননা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

জবাবে স্পিকার বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ একজন পুরোনো সংসদ সদস্য। তিনি কুরআন-হাদিস নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করবেন বলে মনে হয় না। তবে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে। কোনো ভুল ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।

স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। এখানে কুরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দিয়ে বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কুরআনের ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ আনা হলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। তার দাবি, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ একজন মাওলানা ও মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি। তিনি সৎ উদ্দেশ্যেই বলেছেন, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তা বাড়ে, আর শুকরিয়া আদায় না করলে আজাব আসতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা করা ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেন, দেশে কোনো সংসদ সদস্য যদি ভুলক্রমেও ইসলামের অবমাননা করেন, সরকার তার নিন্দা করবে। তবে ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার আবারও সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে অধিকাংশ সদস্য মুসলমান এবং দেশের বড় অংশের মানুষও ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তাই সংসদকে বিরূপ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না বানিয়ে সবাইকে সংযত থাকতে হবে।

এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আয়াতের নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট আড়াল করে বিষয়টিকে দলীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

মুজিবুর রহমান বলেন, আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত অসংখ্য। মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর বিধানের পক্ষে কথা বলা। কিন্তু বাজেটের প্রশংসা না করলে বিরোধীদের ওপর আজাব আসবে, এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হলে তা সঠিক হবে না।

তিনি প্রয়োজনে কোনো আলেম বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করার দাবি জানান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্পিকার আবারও সদস্যদের শান্ত হতে বলেন। তিনি জানান, সরকারি দলেও মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম সংসদ সদস্য রয়েছেন। এরপর নতুন বিতর্ক না বাড়ানোর শর্তে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়।

কামরুজ্জামান বক্তব্যে বলেন, পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা অনুসারে সঠিক বিষয়ের ওপর আমল করা উচিত। তিনি আলেম-ওলামাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, যা সহিহ ও সঠিক, সবার উচিত সেটি অনুসরণ করা।

সবশেষে বিতর্ক থামাতে বক্তব্য দেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, সংসদের জ্যেষ্ঠ নেতারা কথা বলার সময় অন্য সদস্যদের আসনে বসে শোনা উচিত।

চিফ হুইপ বলেন, সংসদ সদস্য মাহফুজুল্লাহ একজন আলেম। তিনি ব্যঙ্গ বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে কথা বলেননি। বরং সবার আমল আরও সহিহ ও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যেই তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।

পরে স্পিকার বিতর্কিত অংশ পরীক্ষা করে দেখার আশ্বাস দিলে সংসদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ট্যাগ : জামায়াতে ইসলামী স্পিকার জাতীয় সংসদ

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুরআনের আয়াত নিয়ে সংসদে বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা ঘিরে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়েছে। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপ ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বিরোধীদের সমালোচনা করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী। যারা আল্লাহর বান্দাদের বিরুদ্ধে বা অন্যায়ভাবে কৌশল করে, তাদের পরিণতি ভালো হয় না।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও জনমুখী কর্মকাণ্ড স্বীকার না করে যারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

তার বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আপত্তি জানান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট বক্তৃতায় কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের শামিল।

নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, পবিত্র কুরআনের আয়াতকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়, যাতে মনে হয় সরকারের প্রশংসা না করলে আল্লাহর আজাব নেমে আসবে। তিনি বলেন, কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং অতীতে কুরআনের অবমাননা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

জবাবে স্পিকার বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ একজন পুরোনো সংসদ সদস্য। তিনি কুরআন-হাদিস নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করবেন বলে মনে হয় না। তবে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে। কোনো ভুল ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।

স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। এখানে কুরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দিয়ে বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কুরআনের ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ আনা হলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। তার দাবি, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ একজন মাওলানা ও মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি। তিনি সৎ উদ্দেশ্যেই বলেছেন, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তা বাড়ে, আর শুকরিয়া আদায় না করলে আজাব আসতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা করা ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেন, দেশে কোনো সংসদ সদস্য যদি ভুলক্রমেও ইসলামের অবমাননা করেন, সরকার তার নিন্দা করবে। তবে ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার আবারও সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে অধিকাংশ সদস্য মুসলমান এবং দেশের বড় অংশের মানুষও ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তাই সংসদকে বিরূপ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না বানিয়ে সবাইকে সংযত থাকতে হবে।

এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আয়াতের নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট আড়াল করে বিষয়টিকে দলীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

মুজিবুর রহমান বলেন, আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত অসংখ্য। মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর বিধানের পক্ষে কথা বলা। কিন্তু বাজেটের প্রশংসা না করলে বিরোধীদের ওপর আজাব আসবে, এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হলে তা সঠিক হবে না।

তিনি প্রয়োজনে কোনো আলেম বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করার দাবি জানান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্পিকার আবারও সদস্যদের শান্ত হতে বলেন। তিনি জানান, সরকারি দলেও মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম সংসদ সদস্য রয়েছেন। এরপর নতুন বিতর্ক না বাড়ানোর শর্তে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়।

কামরুজ্জামান বক্তব্যে বলেন, পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা অনুসারে সঠিক বিষয়ের ওপর আমল করা উচিত। তিনি আলেম-ওলামাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, যা সহিহ ও সঠিক, সবার উচিত সেটি অনুসরণ করা।

সবশেষে বিতর্ক থামাতে বক্তব্য দেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, সংসদের জ্যেষ্ঠ নেতারা কথা বলার সময় অন্য সদস্যদের আসনে বসে শোনা উচিত।

চিফ হুইপ বলেন, সংসদ সদস্য মাহফুজুল্লাহ একজন আলেম। তিনি ব্যঙ্গ বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে কথা বলেননি। বরং সবার আমল আরও সহিহ ও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যেই তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।

পরে স্পিকার বিতর্কিত অংশ পরীক্ষা করে দেখার আশ্বাস দিলে সংসদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ