জাতীয় সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের মতো পর্যাপ্ত পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে একটি বিলের ওপর আলোচনার সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “মাননীয় স্পিকার, বিলের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে গতকাল আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনো ডিসেন্ট ভয়েস রেইজ করা যায় বলে আমার মনে হয়নি। আমি কথা বলার পর সংসদে যে ধরনের আচরণ আমি লক্ষ্য করেছি, সেটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে হয় না।”
তিনি বলেন, “আমার কথার যদি কোনো কাউন্টার বলার বিষয় থাকে, সেটা দাঁড়িয়ে বলা যেত। আমি বক্তব্য শেষ করার পর বক্তব্য দেওয়া যেত।”
রুমিন আরও বলেন, “শুধু তাই নয় মাননীয় স্পিকার, এই মহান সংসদে আমারই আশপাশের সংসদ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন। এটা কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।”
তার বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে প্রত্যেক সদস্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা উচিত। সরকারি দল বা বিরোধী দলের কোনো সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় অন্য পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিকার বলেন, “গতকাল যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। আপনি এখন বিলটির জনমত যাচাই এবং বাছাই কমিটি সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে পারেন। ইতোমধ্যে আপনি মোটামুটি আপনার ফিলিং বলেছেন। আই হ্যাভ অল দ্য... আই রেসপেক্ট ইউর সেন্টিমেন্টস।”
এরপর রুমিন ফারহানা বলেন, সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকবেন। সবার মত ভিন্ন হতে পারে এবং সেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “এই সংসদে যখন একা দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের ২০১৮-এর সংসদে বিএনপির পক্ষে কথা বলেছিলাম, তখনও আমাকে এই জঘন্য একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।”
রুমিন আরও বলেন, “এরপর কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা ভোটের মাধ্যমে সংসদে আসলাম। সেখানে যদি ন্যূনতম কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে এই সংসদে বিরোধী দল সেজে শুধু ‘না’-তে ভোট দেওয়ার জন্য থাকার কোনো দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।”
এর আগে বুধবার সংসদে রুমিন ফারহানার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বাংলাদেশে ঋণখেলাপি থাকবে, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে—এটা তো হতে পারে না’—এমন মন্তব্যের পর সংসদে হট্টগোল শুরু হয়।