ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বার সভাপতির তর্ক, মাঝপথে থামল আপিল বিভাগের কার্যক্রম

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বার সভাপতির তর্ক, মাঝপথে থামল আপিল বিভাগের কার্যক্রম
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়কে কেন্দ্র করে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, বিচারিক শৃঙ্খলা ও সততার বিষয়কে প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। আদালতের সঙ্গে প্রতারণার কোনো ঘটনা নজরে এলে তিনি সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলায় একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে পাঁচটি রিট করা হয়েছিল। তবে আগের রিটে দেওয়া প্রত্যাখ্যানের আদেশ পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। আদালতের কাছে বিষয়টি গুরুতর প্রতারণা হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় এক নারী আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে আরও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ওই মামলায় এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন। তবে সকালে মামলার আদেশ দেওয়ার সময় খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, সকাল সোয়া ৯টার দিকে ওই মামলার আদেশ দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানিতে জরিমানার প্রসঙ্গটি তোলেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি।

এ সময় প্রধান বিচারপতি জানান, মামলাটি পর্যালোচনা করেই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আদালত সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না। আদালতের বিবেচনায় মামলায় গুরুতর প্রতারণা হয়েছে এবং আপিল বিভাগের আগের আদেশ সম্পর্কেও তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এরপর প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে আর মন্তব্য না করার জন্য খোকনকে অনুরোধ করেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

রুহুল কুদ্দুস কাজলের দাবি, এরপর এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনজীবীদের আয় কমে গেছে—এমন মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতি আপত্তি জানান এবং ওই বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য, একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জানান, এমন বক্তব্যের পর তিনি আর ওই দিনের আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। এরপর তিনি এজলাস ত্যাগ করেন এবং তার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতিও এজলাস ছেড়ে যান।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। আদালতে বিচারপতি ও আইনজীবীদের মধ্যে মতপার্থক্য বা ভুল-বোঝাবুঝি হতে পারে। তবে এসব বিষয় সাধারণত সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বার সভাপতির তর্ক, মাঝপথে থামল আপিল বিভাগের কার্যক্রম

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়কে কেন্দ্র করে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, বিচারিক শৃঙ্খলা ও সততার বিষয়কে প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। আদালতের সঙ্গে প্রতারণার কোনো ঘটনা নজরে এলে তিনি সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলায় একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে পাঁচটি রিট করা হয়েছিল। তবে আগের রিটে দেওয়া প্রত্যাখ্যানের আদেশ পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। আদালতের কাছে বিষয়টি গুরুতর প্রতারণা হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় এক নারী আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে আরও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ওই মামলায় এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন। তবে সকালে মামলার আদেশ দেওয়ার সময় খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, সকাল সোয়া ৯টার দিকে ওই মামলার আদেশ দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানিতে জরিমানার প্রসঙ্গটি তোলেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি।

এ সময় প্রধান বিচারপতি জানান, মামলাটি পর্যালোচনা করেই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আদালত সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না। আদালতের বিবেচনায় মামলায় গুরুতর প্রতারণা হয়েছে এবং আপিল বিভাগের আগের আদেশ সম্পর্কেও তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এরপর প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে আর মন্তব্য না করার জন্য খোকনকে অনুরোধ করেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

রুহুল কুদ্দুস কাজলের দাবি, এরপর এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনজীবীদের আয় কমে গেছে—এমন মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতি আপত্তি জানান এবং ওই বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য, একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জানান, এমন বক্তব্যের পর তিনি আর ওই দিনের আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। এরপর তিনি এজলাস ত্যাগ করেন এবং তার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতিও এজলাস ছেড়ে যান।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। আদালতে বিচারপতি ও আইনজীবীদের মধ্যে মতপার্থক্য বা ভুল-বোঝাবুঝি হতে পারে। তবে এসব বিষয় সাধারণত সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ