ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইউরোপে বিক্ষোভের আগুন: মাথায় হাত বাংলাদেশি পোশাক মালিকদের!

ইউরোপে বিক্ষোভের আগুন: মাথায় হাত বাংলাদেশি পোশাক মালিকদের!
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ফ্রান্স ও ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সামাজিক বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা। জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও আবাসন সংকটের জেরে ইউরোপজুড়ে অস্থিরতা চলায় সেখানকার ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি পোশাকের সার্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার স্থগিতাদেশ এবং দেশীয় সুতা আমদানিতে নতুন নীতিগত বিধিনিষেধের দ্বিমুখী চাপে পড়েছে দেশের প্রধান এই রপ্তানি খাত।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ফ্যাশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, ফ্রান্সের দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভের জেরে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর একজন বড় ফরাসি বায়ার ইতোমধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হওয়া একটি বড় ক্রয়াদেশ স্থগিত রাখতে বলেছেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশই যায় ইউরোপের বাজারে। ফলে সেখানে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডিবিএল ও উর্মি গ্রুপের মতো শীর্ষ রপ্তানিকারকরা। স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম উল্লেখ করেন, শুধু বিক্ষোভ নয়, ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণেও বৈশ্বিক চাহিদা সংকুচিত হচ্ছে।

ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানি ১.২৯ শতাংশ কমেছে; এ সময় দেশগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ১২.৬৭ শতাংশ। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সুতা আমদানিতে সরকারের নতুন বিধিনিষেধ। দেশীয় বস্ত্রকলগুলোকে সুরক্ষা দিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহার করে সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রপ্তানিকারকরা একে ‘অশুল্ক বাধা’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে চড়া মূল্যে দেশীয় সুতা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। ফকির ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে ৩০ কাউন্টের কম্বড সুতা প্রতি কেজি ৩.১৫ ডলারে পাওয়া যায়, সেখানে স্থানীয় বাজারে তা ৩.৭৫ ডলারে কিনতে হচ্ছে। এতে প্রতি পিস পোশাকে উৎপাদন খরচ গড়ে ০.১৫ ডলার বাড়লেও ইউরোপের ক্রেতারা এক সেন্টও বাড়তি দিতে নারাজ; বরং তারা উল্টো দাম কমানোর চাপ দিচ্ছে।

এ ছাড়া শ্রমিকের সম্ভাব্য মজুরি বৃদ্ধি এবং ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সুবিধার কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী এক মাসের মধ্যে সুতা আমদানির বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা; অন্যথায় ক্রয়াদেশগুলো ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত ও পাকিস্তানে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

ট্যাগ : ইউরোপ বাংলাদেশি পোশাক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


ইউরোপে বিক্ষোভের আগুন: মাথায় হাত বাংলাদেশি পোশাক মালিকদের!

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফ্রান্স ও ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সামাজিক বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা। জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও আবাসন সংকটের জেরে ইউরোপজুড়ে অস্থিরতা চলায় সেখানকার ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি পোশাকের সার্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার স্থগিতাদেশ এবং দেশীয় সুতা আমদানিতে নতুন নীতিগত বিধিনিষেধের দ্বিমুখী চাপে পড়েছে দেশের প্রধান এই রপ্তানি খাত।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ফ্যাশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, ফ্রান্সের দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভের জেরে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁর একজন বড় ফরাসি বায়ার ইতোমধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হওয়া একটি বড় ক্রয়াদেশ স্থগিত রাখতে বলেছেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশই যায় ইউরোপের বাজারে। ফলে সেখানে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডিবিএল ও উর্মি গ্রুপের মতো শীর্ষ রপ্তানিকারকরা। স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম উল্লেখ করেন, শুধু বিক্ষোভ নয়, ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণেও বৈশ্বিক চাহিদা সংকুচিত হচ্ছে।

ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানি ১.২৯ শতাংশ কমেছে; এ সময় দেশগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ১২.৬৭ শতাংশ। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সুতা আমদানিতে সরকারের নতুন বিধিনিষেধ। দেশীয় বস্ত্রকলগুলোকে সুরক্ষা দিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহার করে সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রপ্তানিকারকরা একে ‘অশুল্ক বাধা’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে চড়া মূল্যে দেশীয় সুতা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। ফকির ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে ৩০ কাউন্টের কম্বড সুতা প্রতি কেজি ৩.১৫ ডলারে পাওয়া যায়, সেখানে স্থানীয় বাজারে তা ৩.৭৫ ডলারে কিনতে হচ্ছে। এতে প্রতি পিস পোশাকে উৎপাদন খরচ গড়ে ০.১৫ ডলার বাড়লেও ইউরোপের ক্রেতারা এক সেন্টও বাড়তি দিতে নারাজ; বরং তারা উল্টো দাম কমানোর চাপ দিচ্ছে।

এ ছাড়া শ্রমিকের সম্ভাব্য মজুরি বৃদ্ধি এবং ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সুবিধার কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী এক মাসের মধ্যে সুতা আমদানির বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা; অন্যথায় ক্রয়াদেশগুলো ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত ও পাকিস্তানে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ