সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া কিংবা বৈষম্য তৈরির উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রশাসনে দক্ষ ও যোগ্য জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নিয়োগ পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর কমানোর বিষয়টি রয়েছে।
এ পরিবর্তন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রশ্নটির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ধারণা রয়েছে। তবে সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর ফলে দুর্নীতি বা পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে কি না—এমন আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা যেতে পারে সরকার দুর্নীতি বা নিজেদের পছন্দের লোক নিয়োগের উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে কি না। এ ধরনের প্রশ্নের জবাব দিতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।
লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন বক্তব্যের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, মৌখিক পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে বিষয়নির্ভর হওয়ায় সেখানে অনিয়ম বা নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার ঝুঁকি থাকার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না।
তবে তার মতে, একজন সরকারি কর্মচারীর যোগ্যতা শুধু লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত নম্বর দিয়ে নির্ধারণ করা যথেষ্ট নয়। দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, আচরণগত সক্ষমতা ও অ্যাপটিটিউডও মূল্যায়নের আওতায় থাকা উচিত।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান জানান, তিনি একাধিক বিসিএস পরীক্ষার মৌখিক বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন অনেক প্রার্থীকে তিনি ভাইভায় পেয়েছেন, যাদের লিখিত ফলাফল খুব ভালো না হলেও মৌখিক পরীক্ষায় তাদের মধ্যে সরকারি চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সক্ষমতা দেখতে পেয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রশাসনে এমন কর্মী প্রয়োজন যারা শুধু পরীক্ষার খাতায় ভালো করতে পারবেন তা নয়, বাস্তব কর্মক্ষেত্রেও দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারবেন। তার মতে, মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর কিছু অতিরিক্ত দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ থাকে।
তবে ভাইভাকে কেন্দ্র করে অনিয়মের আশঙ্কা থাকলে নিয়োগব্যবস্থার প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও সংস্কারের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নতুন নম্বর পদ্ধতির মাধ্যমে আরও কার্যকর নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সরকার মনে করছে এবং এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের আইনগত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কোনো নিয়োগের পর অনিয়ম বা দুর্নীতির নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় একজন প্রার্থী পৃথকভাবে কত নম্বর পেয়েছেন, তা প্রকাশের ব্যবস্থা করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেন জাহেদ উর রহমান।