ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করার এবং প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস পরিবার থেকেই শুরু করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। তাদের ছোট ছোট উদ্যোগ সমাজকে আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়েও খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ছে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার মাধ্যমে নিজেদের সুস্থ রাখার পাশাপাশি সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন।
এ সময় প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি মানবিক আচরণের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আশপাশের অসহায় প্রাণীদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রাণীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা উচিত নয়। জীবজন্তুর প্রতি মমতা ও দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
এর আগে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে সংসদ ভবনে আসে। তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির দুই সদস্য ছিলেন। অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সময় শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পায়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তার দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও নিজ নিজ এলাকায় এসব সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তারা।