ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে র‍্যাব-ডিজিএফআই কাজ করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে র‍্যাব-ডিজিএফআই কাজ করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশের সব সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র‍্যাব এবং ডিজিএফআই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি অংশকে ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যায় একটি চক্র। এই দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে জরিমানা করার পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।

ভুয়া চিকিৎসক কিংবা অনুমোদনহীন সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালানোর কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আগের কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারণে অনেক শিশু টিকা নিতে পারেনি। কেউ কর্মসূচির খবর না পাওয়ায়, কেউ অভিভাবকের ব্যস্ততার কারণে এবং কেউ স্কুলে থাকার কারণে টিকা থেকে বাদ পড়ে।

তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। তবে কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে টিকা নেওয়ার বয়সে আসা শিশুরাও যুক্ত হয়েছে। ফলে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং তাদের মধ্যে হাম সংক্রমণের ঘটনা দেখা যাচ্ছে।

সিলেটের হাওরাঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল টিকাদান কর্মসূচির আগে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওসমানী হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের কোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন।

দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে একজন ডাক্তার বা নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে র‍্যাব-ডিজিএফআই কাজ করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের সব সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র‍্যাব এবং ডিজিএফআই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি অংশকে ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যায় একটি চক্র। এই দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে জরিমানা করার পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।

ভুয়া চিকিৎসক কিংবা অনুমোদনহীন সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালানোর কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আগের কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারণে অনেক শিশু টিকা নিতে পারেনি। কেউ কর্মসূচির খবর না পাওয়ায়, কেউ অভিভাবকের ব্যস্ততার কারণে এবং কেউ স্কুলে থাকার কারণে টিকা থেকে বাদ পড়ে।

তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। তবে কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে টিকা নেওয়ার বয়সে আসা শিশুরাও যুক্ত হয়েছে। ফলে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং তাদের মধ্যে হাম সংক্রমণের ঘটনা দেখা যাচ্ছে।

সিলেটের হাওরাঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল টিকাদান কর্মসূচির আগে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওসমানী হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের কোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন।

দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে একজন ডাক্তার বা নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ