ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। তাই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান। প্রত্যেকের যেমন দেশের প্রতি অধিকার রয়েছে, তেমনি দায়িত্বও রয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর দেশের অগ্রগতির জন্য একে অপরের পাশে দাঁড়ানো সবার কর্তব্য।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য মানুষ যখন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, তখন কার ধর্ম কী, তা বিবেচনা করা হয়নি। একইভাবে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে এসেছিলেন। তাঁরা একে অপরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আত্মত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি রয়েছে। দেশের পরিবর্তনে সব নাগরিক উপকৃত হন। আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁর ধর্মীয় পরিচয় অনুযায়ী সেই ক্ষতি নির্ধারিত হয় না। তাই মানুষ হিসেবে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
বক্তব্যে তারেক রহমান সবাইকে পরস্পরকে প্রথমত মানুষ ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এ আয়োজন আনন্দ ও মিলনমেলার উপলক্ষ।
মন্তব্যসমূহ