সৌদি আরবে বসবাসরত অ-সৌদি বা বিদেশি নাগরিকদের জমি ও সম্পত্তি মালিকানা সংক্রান্ত আইনের নির্বাহী বিধিমালা অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেদ্দায় পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদেশিরা কোন ভৌগোলিক এলাকায় সম্পত্তি কিনতে পারবেন, তা-ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি গ্যাজেটে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রথম প্রকাশিত হওয়া এই আইনটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর হয়। সর্বশেষ নির্বাহী বিধিমালা অনুমোদনের মধ্য দিয়ে আইনটি এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে আবাসিক বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন, কৃষি জমি ও শিল্প কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের রিয়েল এস্টেট কেনা ও মালিকানা লাভ করতে পারবেন। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া সৌদিতে বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অফিস, কারখানা ও গুদামঘরসহ প্রয়োজনীয় সম্পত্তি কিনতে ও মালিকানায় রাখতে পারবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সৌদি তথ্যমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি জানান, বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বিভিন্ন খাতের অর্জনের প্রশংসা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইএমডি বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক সূচকে সৌদি আরব বিশ্বের মধ্যে ১৩তম স্থান এবং জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। পাশাপাশি টানা তৃতীয় বছরের মতো বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সূচকে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে দেশটি।
বৈঠকে আরও অনুমোদন দেওয়া হয় প্রথম যৌথ সৌদি–মিশরীয় কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) প্রকল্প, জার্মানির সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, পাকিস্তানের সঙ্গে বিমান পরিবহন সেবা এবং ওমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক। পাশাপাশি নেপাল ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে শ্রমিক নিয়োগ চুক্তিও অনুমোদিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন আইন সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।