ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

টঙ্গীর হাজির মাজার বস্তিতে জিএমপি ও রাজউকের বড় উচ্ছেদ অভিযান

টঙ্গীর হাজির মাজার বস্তিতে জিএমপি ও রাজউকের বড় উচ্ছেদ অভিযান
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদকের ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত হাজির মাজার বস্তিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পরিচালিত এ অভিযানে রাজউকের মালিকানাধীন জমিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন দখলে থাকা সরকারি জমি অবমুক্ত করার পাশাপাশি এলাকায় মাদক কারবারের পরিবেশও ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গী বাজার এলাকায় কলকারখানা অধিদপ্তরের সংলগ্ন স্থানে এ অভিযান শুরু হয়। রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পে-লোডার, এক্সকাভেটরসহ বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন।

অভিযান ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. লিটন সরকারের নেতৃত্বে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা রাজউক টিমকে নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা দেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাজির মাজার বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে অভিযান পরিচালনা করলেও মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। বস্তির ভেতরে রাজউকের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল।

এদিন অভিযানে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এতে দীর্ঘদিন দখলে থাকা রাজউকের জমি দখলমুক্ত হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালে আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

অভিযান শেষে জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “মাদকের অভিশাপ থেকে টঙ্গী এলাকাকে মুক্ত করতে এবং সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. লিটন সরকার বলেন, “রাজউকের এই প্লটটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আজ প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আমরা আমাদের জমি বুঝে নিয়েছি।”

রাজউক জানিয়েছে, উচ্ছেদ করা জমিতে যাতে পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা মাদকের কোনো স্পট গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে ভবিষ্যতে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের মাদক কারবারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হাজির মাজার বস্তিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


টঙ্গীর হাজির মাজার বস্তিতে জিএমপি ও রাজউকের বড় উচ্ছেদ অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদকের ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত হাজির মাজার বস্তিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পরিচালিত এ অভিযানে রাজউকের মালিকানাধীন জমিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন দখলে থাকা সরকারি জমি অবমুক্ত করার পাশাপাশি এলাকায় মাদক কারবারের পরিবেশও ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গী বাজার এলাকায় কলকারখানা অধিদপ্তরের সংলগ্ন স্থানে এ অভিযান শুরু হয়। রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পে-লোডার, এক্সকাভেটরসহ বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন।

অভিযান ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. লিটন সরকারের নেতৃত্বে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা রাজউক টিমকে নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা দেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাজির মাজার বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে অভিযান পরিচালনা করলেও মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। বস্তির ভেতরে রাজউকের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল।

এদিন অভিযানে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এতে দীর্ঘদিন দখলে থাকা রাজউকের জমি দখলমুক্ত হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালে আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

অভিযান শেষে জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “মাদকের অভিশাপ থেকে টঙ্গী এলাকাকে মুক্ত করতে এবং সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. লিটন সরকার বলেন, “রাজউকের এই প্লটটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আজ প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আমরা আমাদের জমি বুঝে নিয়েছি।”

রাজউক জানিয়েছে, উচ্ছেদ করা জমিতে যাতে পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা মাদকের কোনো স্পট গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে ভবিষ্যতে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের মাদক কারবারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হাজির মাজার বস্তিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ