বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দক্ষ চালক তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ চালক তৈরি করতে সফল প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে। আর তিন মাস পর এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দেখা হবে।
প্রবাসী ভবনে ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষদের কাছে গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বিদেশে অদক্ষ কর্মী পাঠানোর অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষিত করতে হবে।
বিশেষ করে বিদেশে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে শুধু গাড়ি চালানো জানলেই হবে না। নেভিগেশন, সড়কের মানচিত্র, ট্রাফিক সংকেত এবং আধুনিক ট্রাফিকব্যবস্থা সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা গাড়ির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারার পরই তাদের সড়কে চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। তার আগে মাঠ বা উপযুক্ত খোলা জায়গায় পর্যাপ্ত অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে।
শুধু গাড়ি চালানোর দক্ষতা নয়, প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রশিক্ষণার্থীদের চোখ পরীক্ষা করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। কারও চোখে সমস্যা থাকলে তাকে ড্রাইভিংয়ের পরিবর্তে অন্য উপযোগী প্রশিক্ষণে যুক্ত করার কথা বলেছেন মন্ত্রী।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নারীদেরও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিদেশের অনেক শহরে দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হয়। তাই নারীদের প্রশিক্ষিত করা গেলে তাদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গাড়ির মৌলিক যান্ত্রিক বিষয় শেখানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। রাস্তায় গাড়িতে হঠাৎ সমস্যা দেখা দিলে সেটি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা এবং ছোটখাটো সমস্যা মোকাবিলার মতো জ্ঞান চালকদের থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কতটা সফল হচ্ছে, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, তিন মাস পর সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর অধ্যক্ষদের কাছ থেকে অগ্রগতি প্রতিবেদন নেওয়া হবে। কতজন প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষ করে তোলা হয়েছে, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কতটা দেওয়া হয়েছে, সেসব তথ্য পর্যালোচনা করা হবে।
যেসব প্রশিক্ষণকেন্দ্র বেশি সংখ্যক দক্ষ চালক তৈরি করতে পারবে, তাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।
প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া গাড়িগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশও দিয়েছেন মন্ত্রী। গাড়িগুলো শুধু প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার, নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ, ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন ও সার্ভিসিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু দেশে চালকের দক্ষতা বাড়ানো নয়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি চালকদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
মন্তব্যসমূহ