সেপ্টেম্বর মাসেও দেশের বাজারে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকায় বিক্রি হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানায়। বর্তমান মূল্যহার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুরো মাস কার্যকর থাকবে।
এর আগে গত ৩১ মে জুন মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার। ওই সময় ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা প্রতি লিটারেই রাখা হয়। তবে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। ফলে কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকায় ওঠে।
পরবর্তী সময়ে জুলাই ও আগস্টে এই মূল্যহার পরিবর্তন করা হয়নি। সেপ্টেম্বরেও একই দর বহাল থাকায় টানা চার মাস দেশের বাজারে এসব জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১৯ এপ্রিল বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়। তখন ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপের কারণে চলতি বছর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ঘিরে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং পরিবহন ও বীমা ব্যয় বাড়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়।
বাংলাদেশে ২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, শুল্ক-কর, বিপিসির মার্জিন এবং পরিবহন ও বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে প্রতি মাসে খুচরা মূল্য পর্যালোচনা করা হয়।
সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেপ্টেম্বরেও এসব উপাদান বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান মূল্যহারই বহাল রাখা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ